গণহত্যাকারী বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহমাদ বদরুদ্দিন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) হত্যা ও সহিংসতায় উসকানি, এসব কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় বৈধতা প্রদান এবং পদমর্যাদার অপব্যবহারসহ গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত তাকে এ সাজা দেয়।
আহমাদ বদরুদ্দিন হাসুন ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাশার সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত গ্র্যান্ড মুফতী ছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর এক মাস আগে তিনি আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। গত ২৫ জুন তার বিচার শুরু হয়।
আদালত বিভিন্ন অভিযোগে তাকে পৃথক মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়। হত্যায় উসকানির অভিযোগে তাকে ২০ বছর এবং হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকজন ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারক ফখরুদ্দীন আল-আরিয়ান বলেন, বাশার আল-আসাদের শাসনামলে হাসুন ও তার নেতৃত্বাধীন ব্যক্তিরা সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর লুটপাট ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় বৈধতার আবরণ দিতে ব্যবহার করেছিলেন।
আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, বেসামরিক এলাকায় হামলায় ব্যবহৃত ব্যারেল বোমার ব্যবহারকেও হাসুনের বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এসব হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আদালত আরও জানায়, হাসুন তার ধর্মীয় বক্তৃতায় সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের বাশারবিরোধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে পূর্ব আলেপ্পোর বেসামরিক বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বানও দিয়েছিলেন তিনি।
এছাড়া যেসব এলাকা থেকে বাশারবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, সেসব এলাকা ‘ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন’ করার আহ্বান জানানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইদলিবের জনগণকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আদালতে উঠে আসে।
আদালত জানিয়েছে, সংঘটিত অপরাধের গুরুতরতার কারণে হাসুন কোনো সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমার আওতায় আসবেন না। তার অর্থ-সম্পদ ও সম্পত্তি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করবে এবং সেগুলো সরকারি কোষাগারের স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আস’আদ আশ-শাইবানি এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা করা একটি পবিত্র দায়িত্ব, যা স্বাধীনতার প্রথম আহ্বানের সঙ্গে শুরু হয়েছিল এবং যার প্রতিধ্বনি এখনো মিলিয়ে যায়নি।
হাসুনের বিরুদ্ধে এ রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন এর কয়েক সপ্তাহ আগে গণহত্যাকারী বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও পাঁচ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া বাশার আল-আসাদের দুই চাচাতো ভাই আতিফ নাজিব ও ওয়াসিম আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের বিচার আদালতে উপস্থিত অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র : আল জাজিরা










