ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি হস্তশিল্পের রপ্তানি বেড়েছে। এর ফলে প্রদেশটির অনেক নারী উদ্যোক্তার ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়েছে।
হেরাতের নারী বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে নারীদের তৈরি প্রায় ১০০ টন হস্তশিল্প বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার।
এসব হস্তশিল্প আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, তুরস্ক ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করা হচ্ছে।
হেরাতের নারী বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারের প্রধান বেহনাজ সেলজুকি বলেন, নারীদের তৈরি হস্তশিল্প আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিদেশে পরোক্ষভাবে রপ্তানি হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তারা কার্গোর মাধ্যমে এসব দেশে তাদের পণ্য পাঠাচ্ছেন।
তিনি বলেন, নারী ব্যবসায়ীরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাদের হস্তশিল্প ও অন্যান্য পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং সেখানকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নারীদের জন্য আশাব্যঞ্জক।
হেরাতের কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা জানান, কার্গো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পণ্য পরোক্ষভাবে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। রপ্তানি আরও সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হেরাতের একটি পোশাক তৈরির কারখানার দায়িত্বশীলরা জানান, আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী নারী পোশাক ‘গান্দ আফগানি’র বিদেশি বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কারখানাটির দায়িত্বশীল জাহরা আমিনি বলেন, আমেরিকা, জার্মানি, ইরান, ভারত ও পাকিস্তান থেকে তাদের কাছে আফগানি পোশাকের অর্ডার আসে। পাশাপাশি কাবুল, কান্দাহার ও মাজার-ই-শরিফ থেকেও তারা অর্ডার পান।
আরেক নারী উদ্যোক্তা আজিজা আমিনি বলেন, আফগানিস্তানের তুলনায় বিদেশের বাজারে তাদের পণ্যের বিক্রি বেশি। তাদের অধিকাংশ পণ্য আমেরিকা, তুরস্ক ও জার্মানিতে রপ্তানি হয়।
এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক নারী নিজেদের পরিবারের ব্যয় বহন করছেন।
একটি পোশাক কারখানার কর্মী হাদিয়া মুহাম্মাদি বলেন, তিনি এক বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন এবং পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন। স্কুল বন্ধ হওয়ার পর তিনি ঘরে বেকার ছিলেন। এখন কাজ শুরু করার পর তার মানসিক অবস্থাও অনেক ভালো হয়েছে।
পোশাক, জুতা, ব্যাগ, শিল্পকর্ম ও ঐতিহ্যবাহী কাচের সামগ্রী হেরাতের নারীদের তৈরি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হেরাতে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ নারী ও মেয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন শুধু গত এক বছরেই ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স পেয়েছেন।
সূত্র : টোলো নিউজ











