spot_img
spot_img

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করছে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রথম আধা ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চারটি লিখিত প্রশ্ন ও ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

মনিরুল হক চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সকল কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করে সহকারী মৌলভী (ক্বারী) এবং ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের কাম্য যোগ্যতা হিসেবে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই দুটি পদে কওমি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) ডিগ্রিসহ ইলমে কিরাআত বা হিফজুল কোরআন সনদপ্রাপ্তদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার ধারণা আছে যে, আমাদের যেটা রেগুলার সিলেবাস আছে, সেটার মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। তবে অবশ্যই এটাকে আমরা আরো কীভাবে ডেভেলপ করা যায়, নিশ্চয়ই সেটিকে পর্যালোচনা করতে পারি।’

ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্য, আপনি যদি আমাকে একটু আলাদা নোটিশ দেন, আমি পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে খোঁজখবর করে সংসদের সামনে উপস্থাপন করবো।’

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ