রাশিয়ার সহায়তায় শব্দের চেয়েও কয়েকগুণ দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছে ইরান। গোপনে পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্রের র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘C430L’ কোডনামে প্রকল্পটি ২০২৩ সালে শুরু হয় এবং ২০২৬ সালেও এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এফটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ইরানকে এমন একটি র্যামজেট প্রপালশন সিস্টেম তৈরি করতে সহায়তা করা, যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম করবে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রযুক্তি জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে কাজে লাগানো হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট প্রকল্পটি সমন্বয় করছে। এতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ত্রোইয়েনিয়ার বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। রুশ প্রকৌশলীরা ২০২৩ সালে কয়েক দফা ইরান সফর করেন। একই বছরের নভেম্বরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়।
২০২৫ সালের মধ্যে ইরান থেকে র্যামজেট ইঞ্জিনের বিভিন্ন কারিগরি তথ্য পায় রাশিয়া। এরপর রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তারা জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, বায়ু প্রবেশপথ এবং ইঞ্জিনের নোজল নিয়ে ইরানের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন ও পরামর্শ পাঠান।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রোসোবোরোনএক্সপোর্ট ইরানে প্রায় দুই ডজন রুশ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। প্রকল্পটির আওতায় কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার জন্য তাদের পাঠানোর কথা ছিল।
এফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে র্যামজেট প্রপালশন সিস্টেম তৈরি ও পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো মোতায়েন বা সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিনজ বলেন, রাশিয়া থেকে ইরানের কাছে অত্যন্ত কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি এখানে দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গতিতে এবং নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য প্রতিপক্ষের হাতে কম সময় থাকে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীর জন্য এ ধরনের অস্ত্র ভবিষ্যতে বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে। এর বিপরীতে রাশিয়ার কাছ থেকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে তেহরান। C430L প্রকল্পকে সেই সহযোগিতার আরও গভীর পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।











