ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সামঞ্জস্য করবে ইন্দোনেশিয়া। তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে দেশটি।
কাবুলে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নান্দা আভালিস্ত বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমরা এই পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র গঠন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা রাতারাতি সম্পন্ন করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় ইন্দোনেশিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্য ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।”
এক প্রশ্নের জবাবে ইমারাতে ইসলাম আফগানিস্তানকে সম্ভাব্য স্বীকৃতির বিষয়ে নান্দা আভালিস্ত বলেন, এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সামঞ্জস্য করবে।
একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গভীর ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি দেশগুলো ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা জোরদারে ইন্দোনেশিয়া এই অবস্থানকে কাজে লাগাতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওমর মুখতার নিজকাদ বলেন, “আফগানিস্তান ও ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণ শুধু রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই সহযোগিতা উন্নয়নে ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদ ফাকিরি বলেন, “মালয়েশিয়া বা অন্য দেশগুলোর স্বীকৃতির বিষয়ে অবস্থান একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। প্রথমে শাসক কর্তৃপক্ষের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে সংস্কার আনতে হবে। এরপর স্বীকৃতির বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে।”
ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থানের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সামঞ্জস্য করবে বলে জানালেও, আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর দেশটির জোর দেওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে, জাকার্তা কাবুলের সঙ্গে তাদের বর্তমান সম্পৃক্ততা বজায় রাখা এবং তা আরও সম্প্রসারণ করতে চায়।
সূত্র: টোলো নিউজ












