spot_img
spot_imgspot_img

কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি আইন বাতিলের দাবিতে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ

কুরআন-সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি আইন সংসদে পাস করানোর প্রতিবাদে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর। বিক্ষোভ মিছিল থেকে সরকারকে এই আইন কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে থেকে এসব বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আলেম-ওলামাদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে। ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে বসে আছেন। তিনি আমেরিকার প্রেসক্রিপশনের বাংলাদেশবিরোধী মন্ত্রী হয়েছেন।

তারা বলেন, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের আলেম-ওলামারা বিভক্ত ছিলেন। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামারা এক হয়ে গেছেন। ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সুতরাং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না।

বক্তারা আরও বলেন, এই আইনের প্রতিবাদ করা শুধু আমাদের একার দায়িত্ব নয়, দলমত নির্বিশেষে সব মুসলমানের প্রতিবাদ করা উচিত। সম্পত্তি কীভাবে ভাগ করা হবে, তা কোরআন-সুন্নাহয় স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশের বাবা-মায়েরা কন্যাসন্তানদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। এখন বাবা-মাকে জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি বিতরণের সুযোগ দেওয়া হলে তারা কন্যাসন্তানদের পুরোপুরি বঞ্চিত করবেন। এতে আমাদের বোন ও মেয়েরা সম্পত্তি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কোরআন-সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ একজন ব্যক্তি এই আইন সংসদে তুলেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।

তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে মাত্র একটি মন্তব্যের কারণে জনগণ যে ব্যবহার করেছে, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করলে আপনাদের সঙ্গেও এর চেয়ে বেশি ভালো আচরণ করা হবে না। এই আইনের বিষয়ে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইন পাস করার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে দেশ মদিনা সনদের মাধ্যমে চলবে। অথচ এই আইন মদিনা সনদের বিরুদ্ধে। আপনারা মানুষকে বিদ্যুৎ-গ্যাস দিতে পারেন না।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘শরীয়তবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে’, ‘কোরআনের বিরুদ্ধে যাস না, গদি কিন্তু থাকবে না’, ‘মুক্তির রাজপথ, ইসলামী খেলাফত’, ‘বঙ্গবন্ধুর দিন শেষ, খেলাফতের বাংলাদেশ’, ‘বাড়াবাড়ি করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’ এবং ‘কোরআনবিরোধী কালো আইন মানি না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে থেকে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড় পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং মাওলানা আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস এসব মিছিলের আয়োজন করে।

বিক্ষোভ মিছিলে উভয় দলের মহাসচিবের নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ