ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে জুলাই বিপ্লব এবং শহীদ উসমান হাদির বৈপ্লবিক আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জুলাই বিপ্লবের চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতি প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখনো গভীরভাবে বিদ্যমান থাকার প্রমাণ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত ক্যালিগ্রাফি, আর্ট ও জুলাই গ্রাফিতি এক্সিবিশন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে জীবন দেওয়া শহীদ উসমান হাদির বৈপ্লবিক আহ্বানকে ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের আঁকা চিত্রকর্ম পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে চিত্রকর্ম পাঠিয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে জুলাই বিপ্লব ও শহীদ উসমান হাদির বৈপ্লবিক আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা বাংলার জমিন থেকে জুলাই বিপ্লব ও এর আকাঙ্ক্ষাকে মুছে দিতে চায়, তারা কখনো সফল হবে না। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশে ইনসাফ বিজয়ী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডাকসুর ভিপি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার কথা মানুষের কাছে বারবার তুলে ধরা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকদের শহীদদের স্মৃতিকথা নিয়মিতভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাদের কথা যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাও তত বেশি শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন করা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তারা বিপ্লবের ফসল ঘরে তুললেও বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
সাদিক কায়েম বলেন, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ঘাটতি থাকলেও নাগরিকদের নিজস্ব উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরার মতো আয়োজন ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ও শহীদদের অবদান তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের কথা বারবার স্মরণ করতে হবে। তাদের আত্মত্যাগকে শুধু নির্দিষ্ট কোনো দিন বা কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের সর্বস্তরে তা তুলে ধরতে হবে।












