মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন করে চাপে পড়েছে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ। লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কৌশলগত পেরিম দ্বীপে পৌঁছে গেছে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনী। একই সময়ে ইরাক থেকে আসা ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হুথিরা পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এর আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যায়। হুথিরা একই সময়ে দ্বীপটির বিপরীতে থাকা লোহিত সাগর উপকূলীয় শহর ধুবাবও দখল করেছে বলে দুটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হুথিরা কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখল করে। মোখা ও পেরিমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাব আল-মান্দাবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে হুথিদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এই নৌপথে ইরানের কৌশলগত সুবিধা বাড়তে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে ইরাক থেকে আসা ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে সৌদি তেল সরবরাহের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াদ। তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান। ফলে পাইপলাইন বন্ধের ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুথিদের অগ্রগতির মধ্যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ বিন সালমান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত দুবার ফোনে কথা বলে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চান বলে তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে আমেরিকার হামলায় সম্মতি দেননি। ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযানের জন্য সামুদ্রিক চলাচল নিরাপদ থাকবে। সৌদি জাহাজের ওপর আগে ঘোষণা করা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার প্রভাবে তেলের দামও বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কমে ১০৪ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়ালেও সপ্তাহে ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির পথে ছিল।
সূত্র : রয়টার্স












