spot_img

স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল প্রমাণ করেছে অবৈধ সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। নিজেদের ক্ষমতার কাছে মানুষের জানমালের কোন মূল্য নেই। সারাদেশে অসংখ্য মানুষ হত্যা এবং শত শত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে সরকারের আখের রক্ষা হবে না।

আজ রবিবার (২৮ মার্চ) ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বাদ জুম’আ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকররম, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্দোলনরত ছাত্র, মুসল্লীদের উপর পুলিশ-সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত হত্যা এবং হামলার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল সমর্থন করে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জমায়েত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী ফৈয়জুল করীম বলেন, সারাদেশে হরতাল পালনকালে নিরীহ মাদরাসার ছাত্র ও তৌহিদী জনতার উপর সরকার দলীয় গুন্ডা-মাস্তান এবং রাষ্ট্রের কর্মচারি পুলিশ-বিজিবি নির্বিচারে গুলি করে বি-বাড়ীয়ায় এ পর্যন্ত ১১জন, হাটহাজারীতে ৪জনকে শহীদ করে সরকার রক্তের নেশায় মেতে উঠেছে। পুলিশ বিজিবি মাফিয়াদের রক্ষা করতে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে, রক্তের বদলা না নেয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না।

তিনি বলেন, বয়োবৃদ্ধ আলেমেদীন মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুরকে পুলিশ গুলি করে আহত করে প্রমাণ করেছে এরা হিংস্র হায়েনা। এদের কাছে দেশের কেউই নিরাপদ নয়।

মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিক্ষোভরত জনতার ওপরে সরকর দলীয় বাহিনী ও পুলিশের সম্মিলিত হামলা ও গুলি করে মানুষ হত্যা করা স্বধীনতার মর্মকে আহত করেছে। ৭১-এর ২৬ মার্চের হানাদার বাহিনী যেভাবে আন্দোলনরত বাঙ্গালী জাতির উপরে নৃসংভাবে হামলে পড়ে ছিলো তেমনি গতকালও নিরস্ত্র নিরীহ জনতার উপরে হামলে পড়েছিলো। এধরণেল হামলা একটি সভ্য দেশে কারো কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের ডাকা শান্তিপূর্ণ হরতাল পূর্ণ সমর্থন করে আজ রোববার ১২টা থেকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতাকর্মীরা দলের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমের নেতৃত্বে পিকেটিং করেন। এ সময় পল্টন মোড়, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, দৈনিকবাংলা এলাকা তৌহিদী জনতার স্রোত নামে। পিকেটিংশেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর চত্তরে এক সমাবেশে মিলিত হন।

সমাবেশে ঘোষিত ৬ দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে দাবিগুলো এভাবে তুলে ধরা হয়- ১. চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং বি-বাড়িয়ায় যে সব পুলিশ মিছিলে গুলি চালিয়ে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদেরকে বরখাস্ত করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ২. হাটহাজারী থানার ওসিকে দ্রুত চাকুরী থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ৩. প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপুরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. মোদী বিরোধী আন্দোলনে যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানীমূলক সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৫. ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারদলীয় যে সব গুন্ডাবাহিনী সাধারণ মুসল্লীদের ওপর আক্রমন করেছে, অপমান-অপদস্ত করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ৬. সারা দেশে সকল মানুষের সভা-সমাবেশ, মিছিল মিটিং এবং প্রতিবাদ প্রকাশের সংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কর্মসূচী: আগামী ১লা এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, উত্তর সেক্রেটারী মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ছাত্রনেতা শেখ মুহাম্মদ আলআমিন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ