দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কারাগারে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ফিলিস্তিনি নারী দানা জাওদা। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলের দামুন কারাগারে সন্তান প্রসব করেন ৩৫ বছর বয়সী দানা জাওদা। সন্তান জন্মের পর মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নাবলুসের বাসিন্দা দানা আরও এক সন্তানের মা। তাকে গর্ভবতী অবস্থায় গ্রেপ্তার করে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ছয় মাসের প্রশাসনিক আটকাদেশ দিয়েছিল দখলদার ইসরাইল।
ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সহায়তা না দিয়েই তাকে কঠিন কারাজীবনের মধ্যে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দখলদার ইসরাইলের কারাগারের ভেতরেই তাকে সন্তান প্রসব করতে হয়।
ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘দ্বিগুণ অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ, একদিকে গর্ভবতী একজন নারীকে বিনা বিচারে বন্দি রাখা হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করে কারাগারেই সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এর আগে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, দামুন কারাগারে দানা জাওদাসহ একাধিক গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারী আটক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গর্ভবতী বন্দিরাও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ, খাদ্যসংকট, চিকিৎসায় অবহেলা ও বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন।
দানা জাওদার এক সাবেক সহবন্দি জানিয়েছিলেন, পেটে আগের একটি অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারতেন না। গর্ভাবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারাগারেই সন্তান জন্ম দিতে হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে দখলদার ইসরাইলের কারাগারগুলোতে ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৭০ শিশু ও ৯২ নারী।
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর ফিলিস্তিনি নারীদের গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
সূত্র : আল জাজিরা











