spot_img
spot_img

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে আমেরিকা

পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করেছে আমেরিকা। দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক এক সম্মেলনে আমেরিকার বিমানবাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য জানান।

আমেরিকার বিমানবাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, দেশটির মহাকাশ বাহিনীর হাতে বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে মোতায়েন করা ‘মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র’ রয়েছে।

ট্রয় মেইঙ্ক বলেন, পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় আমেরিকার এমন সক্ষমতা রয়েছে, যা কক্ষপথ থেকেই প্রতিপক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় ব্যবহার করা সম্ভব।

আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কক্ষপথে থাকা এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক, উভয় ধরনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সামরিক কমান্ডের নির্দেশে এগুলো ব্যবহার করা হবে।

তবে কক্ষপথে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, কতগুলো অস্ত্র রয়েছে কিংবা কতদিন ধরে এগুলো মহাকাশে অবস্থান করছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আমেরিকা।

ট্রয় মেইঙ্কও অস্ত্রগুলোর সক্ষমতা ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

কয়েক দশক ধরেই মহাকাশে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও দেশটির কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা এর আগে এত স্পষ্টভাবে কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেননি।

আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর দাবি, চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সামরিক সক্ষমতার কারণে ওয়াশিংটনকে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকেই চীন ও রাশিয়ার মহাকাশ অস্ত্র পরীক্ষা ও কার্যক্রম নিয়ে সতর্ক করে আসছে আমেরিকা।

আল জাজিরা জানিয়েছে, মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের উপগ্রহের যোগাযোগ ব্যাহত করা, সাইবার আক্রমণ, নির্দেশিত শক্তির অস্ত্র কিংবা অন্য উপগ্রহকে অচল করার সক্ষমতা থাকতে পারে। তবে আমেরিকা বর্তমানে এর কোন ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে রেখেছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান নির্ণয় ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে উপগ্রহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের উপগ্রহ অচল করে দেওয়া বড় ধরনের সামরিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

তবে মহাকাশে সরাসরি কোনো উপগ্রহ ধ্বংস করা হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ধ্বংসাবশেষ উচ্চগতিতে কক্ষপথে ঘুরতে থেকে অন্য উপগ্রহ ও মহাকাশযানের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

২০১৯ সালে আমেরিকার মহাকাশ বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ওয়াশিংটন মহাকাশকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এবার কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে সেই সামরিক প্রতিযোগিতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এলো।

সূত্র : আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ