ভিডিও বক্তব্যে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সম্ভাষণ জানানো এবং ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাযাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করায় হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের আপত্তি ও অভিযোগের পর পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার বদলির আদেশ জারি করে।
খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বুশরা বানুকে স্টেট আর্মড পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পার্থ ঘোষ।
নিজের সিভিল সার্ভিসে যোগদানের যাত্রা নিয়ে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বুশরা বানু। ভিডিওর শুরুতে তিনি দর্শকদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সম্ভাষণ জানান। বক্তব্যের মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন এবং শেষে ‘জাযাকাল্লাহ’ বলে বক্তব্য শেষ করেন।
তার এই ইসলামি সম্ভাষণ ও শব্দ ব্যবহারে আপত্তি তোলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড। পরে সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে বুশরা বানুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়।
অভিযোগে সংগঠনটি প্রশ্ন তোলে, বুশরা কেন ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’-এর মতো কোনো অভিব্যক্তি ব্যবহার করেননি। তাদের দাবি, ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন কর্মরত কর্মকর্তার জনসমক্ষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং তাদের ভাষায় ‘জাতীয় অভিব্যক্তি’ ব্যবহার করা উচিত। এ বিষয়ে তদন্তেরও দাবি জানায় সংগঠনটি।
এই অভিযোগের পর বুশরা বানুকে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে সরিয়ে স্টেট আর্মড পুলিশে বদলি করা হয়। তবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির অভিযোগের কারণেই তাকে বদলি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি।
ভিডিওতে বুশরা বানু সৌদি আরবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করা থেকে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের তার যাত্রা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমি তাকে পড়াশোনার উপকরণ, টেস্ট সিরিজ ও লাইব্রেরি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ২০২১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা হুগলি রুরালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চলতি বছরের জুনে তাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দিয়ে খড়গপুরে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সূত্র : মুসলিম মিরর











