spot_img
spot_img

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও গাজ্জায় শহীদদের লাশ উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা

দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠা করুণ বাস্তবতার মধ্যে গাজ্জা উপত্যকার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা কঠিন ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গাজ্জার উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযান ও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে সাধারণ সরঞ্জাম ও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। তীব্র জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ সংকটের পাশাপাশি তাদের ট্রাক ও ভারী যানবাহন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই কঠিন বাস্তবতা প্রতিদিনের মানবিক কাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন এক সংগ্রামে পরিণত করেছে। বিশেষ করে শহীদদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকর্মীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে এসব উদ্ধারকর্মী যখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবং কঠিন লজিস্টিক সংকটের মধ্যে কাজ করছেন, তখন দখলদার বাহিনী মাঠপর্যায়ে তাদের ওপর সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে

গতকাল (সেপ্টেম্বর) গাজ্জা শহরের উত্তরে শেখ রিদওয়ান এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর অ্যাম্বুলেন্সকর্মী শরিফ লাবেদ শহীদ হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হামলার শিকার হওয়া মানবিক কাজে নিয়োজিত কর্মীদের তালিকায় তিনিও যুক্ত হয়েছেন।

এর কয়েক দিন আগে উত্তর গাজ্জার আবু শারখ মোড় এলাকায় চালানো হামলায় আহত হয়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর অগ্নিনির্বাপণ ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা ইউসুফ সালেম শহীদ হন।

এ ছাড়া মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের আরও কয়েকজন সহকর্মী শহীদ হয়েছেন। ফলে উদ্ধারকাজের স্থানগুলোই চিকিৎসা ও ত্রাণকর্মীদের জীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

মানবিক ব্যবস্থার ওপর ‘শেষ গুলি

গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা ইউনিটের পরিচালক ইয়াদ জাকুত সাফা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, উদ্ধারকর্মীদের ওপর অব্যাহত ও সরাসরি হামলা মূলত মানবিক ব্যবস্থার ওপর ‘শেষ গুলি’ চালানোর চেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থা চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন এবং সব আন্তর্জাতিক রীতি ও চুক্তির অধীনে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়ার কথা।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক ও উদ্ধারকারী যানবাহন গাজ্জা উপত্যকায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বর্তমান সংকট নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জাকুতের মতে, এই সংকটের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে সেইসব নাগরিকের ওপর, যারা বোমা হামলার শিকার হচ্ছেন অথবা সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাদের মাথার ওপর বাড়িঘর ধসে পড়ার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম না থাকায় নারী ও শিশুদের সাহায্যের আকুতি ধ্বংসস্তূপের নিচেই প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।’

জাকুত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর প্রতি জরুরি আহ্বান জানান। তিনি এসব সংস্থাকে তাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন, এসব লঙ্ঘনের নথিভুক্তকরণ এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

তিনি নিশ্চিত করে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানবিক কর্মীরা শেষ সদস্য পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে যাবেন।

তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীরা নাগরিকদের প্রতি তাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে নিজেদের কাছে থাকা সরঞ্জাম ও উপলব্ধ সম্পদের ওপর নির্ভর করেই কাজ চালিয়ে যাবেন।

সূত্র : সাফা নিউজ এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ