spot_img
spot_img

কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা যায়, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পবিত্র কোরআনের আলোকে সংবিধান প্রণয়ন করা যেতে পারে। তবে কোরআনকে সরাসরি সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য হলেও ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তন করা যায় না।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক রচিত ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন, কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু কোরআনকে সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে সংশোধন করা যায়, অথচ ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী অপরিবর্তনীয়।

বইটির আলোচনায় আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ তুলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওপর থেকে ইসলামী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং পরিচালনা করাই ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।

আবদুর রাজ্জাকের বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি তাঁর কাছে কেবল সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয়; বরং একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তাচেতনা এবং সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে লেখকের চিন্তা ও দর্শন উঠে এসেছে।

নতুন প্রজন্ম ও পরিবর্তনের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাকের অবস্থান এবং জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অবস্থান আরও আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত।

আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নিজের কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের মাধ্যমে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা চালাতে আবদুর রাজ্জাক উৎসাহ দিতেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারকে তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ