spot_img
spot_img

দামুন কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী

দখলদার ইসরাইলের কারা কর্তৃপক্ষের দমনমূলক নীতি ও ইচ্ছাকৃত চিকিৎসা অবহেলার কারণে উত্তর ফিলিস্তিনের হাইফার কাছে মাউন্ট কারমেল এলাকায় অবস্থিত ‘দামুন’ কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের কঠিন দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বন্দি বিষয়ক তথ্য দপ্তরের বরাতে সাফা নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

দপ্তরটি জানিয়েছে, তিনজন নারী বন্দি অ্যালার্জি ও তীব্র চুলকানিতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকার পাশাপাশি প্রতিটি কক্ষে নির্দিষ্ট ও সীমিত পরিমাণে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এতে কক্ষে থাকা নারী বন্দির সংখ্যা কিংবা তাদের শারীরিক যন্ত্রণার মাত্রার কোনো পার্থক্য বিবেচনা করা হচ্ছে না।

দপ্তরটি আরও জানিয়েছে, গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের জন্য কিছু নারী বন্দিকে নিজেদের ওষুধের বরাদ্দ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষ নারী বন্দিদের ওপর অভিযান ও দমন-পীড়ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনজন নারী বন্দির ওপর গ্যাস স্প্রে করা হয়েছে।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইয়ামাজ’ নামে পরিচিত দমনকারী বাহিনী তিনটি পৃথক কক্ষে অভিযান চালিয়ে সেখানে নির্যাতন ও একাকী বন্দিত্বের ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে ‘ফুরা’ বা খোলা জায়গায় বের হওয়ার সময়ও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। প্রতিদিন এই সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের বেশি নয়। গত সপ্তাহে টানা তিন দিন তাদের এই সুযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এসব দমনমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি নারী বন্দিদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যানিটারি প্যাড, শ্যাম্পু ও চিরুনি। কারা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে এসব সামগ্রীর কিছু জব্দ করেছে।

এর পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহের মাধ্যমে অনাহারের নীতি অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় সামগ্রী ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কারাগারের বিভিন্ন সেলে কুরআন মাজিদের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে নারী বন্দিরা নিজেদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণে পালাক্রমে কুরআন পড়ছেন এবং কুরআন মাজিদগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে ব্যবহার করছেন।

সূত্র: সাফা নিউজ এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ