spot_img
spot_img

দিল্লির বৈঠকের পরিকল্পনা ফাঁস, নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের দিল্লিতে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসায় দলটির অভ্যন্তরে অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসায় শেখ হাসিনা নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে দলীয় আলোচনা ও কর্মসূচির তথ্য বাইরে প্রকাশ না করতে নেতাদের সতর্ক করেছেন বলে দলীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডেইলি ওয়াদার বরাতে বাংলা এডিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দিল্লি থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। বৈঠকের শুরুতেই দিল্লিতে নেতাদের সরাসরি উপস্থিতিতে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে চলে আসায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা হোয়াটসঅ্যাপে সংবাদমাধ্যমকে জানান, দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির তথ্য যাতে আর ফাঁস না হয়, সে বিষয়ে নেতাদের সতর্ক করেছেন শেখ হাসিনা।

এর আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। সেখানে শেখ হাসিনা যে বাসভবনে অবস্থান করছেন, সেটিতেই সরাসরি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।

তবে বৈঠকের ধরন নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। ডেইলি ওয়াদার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে অনলাইনে আয়োজনের কথা বলা হলেও ইত্তেফাক জানিয়েছে, দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ২১ নেতা সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েকজন নেতা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি বলেছেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।

এ ছাড়া বৈঠকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। সেদিন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান তিনি। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার তৎকালীন সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনা ওই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ