ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ভেতরে যে জীবাণু প্রবিষ্ট ছিল, সেই একই জীবাণু আমাদের দেশের বিরোধী দলের মধ্যে এখনো বিরাজমান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মনে করছে যে এখনই তাদের ক্ষমতায় যেতে হবে। কী এমন ঘটনা হয়েছে যে ১১ দলীয় জোটে পার্লামেন্টে যারা বিরোধী দলের রাজনীতি করছেন, তাদের সেই জোটে একজন তরুণ নেতা বলেছেন তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে ক্ষমতায় থাকবে।
মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় পলওয়েল মার্কেটের পাশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তারেক রহমান কি শেখ হাসিনার মতো ক্ষমতা আগলে রেখেছেন। তারেক রহমান কি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে জোর করে ক্ষমতায় এসেছেন। তাহলে আপনি তরুণ এক ছাত্রনেতা। হ্যাঁ, আন্দোলনে ছিলেন। কিন্তু আপনার কথার মধ্যে যে আওয়াজ পাচ্ছি, ওটা তো শেখ হাসিনার আওয়াজ। ওটা আওয়ামী লীগের আওয়াজ। ওই সেই আওয়াজের মধ্যে কোনো গণতন্ত্রের সুর নেই। শান্তির সুর নেই। সহাবস্থানের সুর নেই। তাহলে কীসের জন্য আপনারা এটি করছেন। আপনারা বলছেন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, তাহলে বিকল্প প্রস্তাব দিন। আপনারা বলছেন চাঁদাবাজি এবং দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি হচ্ছে। তাহলে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে, আপনারা প্রস্তাব দিন।
তিনি বলেন, আমরা তো প্রতিদিনই দেখছি যারা চাঁদাবাজি, মাস্তানি, সন্ত্রাসী করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে কাজ করছে। গতকাল রাতে পুলিশ বাহিনী সারা ঢাকা শহরে তল্লাশি চালিয়ে ৪৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অভিযান, সেখানে কোনো ছাড় নেই। তাহলে আপনাদের আন্দোলন কীসের। জ্বালানি তেলের দাম। তো বিকল্প প্রস্তাব দিন। তারেক রহমান কি তেলের দাম, গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের প্রবাহ এখন যে কমে গেছে, তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন। তার ইচ্ছায় কি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। তার ইচ্ছায় কি পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ আছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় ভাইদের বলতে চাই, তারেক রহমানের ইচ্ছায় কি বন্ধ হয়েছে। আপনার মহেশখালীতে গ্যাসের যে টার্মিনাল, সেখানে কারিগরি ত্রুটি তৈরি হয়েছে। সেখানে বাইরে থেকে গ্যাস নিয়ে একে পুনরায় ভরাট করা যায়নি। সেখানে এখন বাইরে থেকে এনে গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশ থেকে এলএনজি নিয়ে এসে সেটা আমাদের জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে এই সংকট। এই ব্যাপারে তো আপনারা কিছু বলছেন না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমাদের এক লিটার ডিজেল কিনতে খরচ হয় ২০৫ টাকা। আমাদের পরশুদিন পর্যন্ত আমরা সেই ২০৫ টাকা দিয়ে এক লিটার ডিজেল কিনে এটা বিক্রি করতে হতো ১১৫ টাকায়। তার মানে ৯০ টাকা লোকসান দিতে হতো সরকারকে। জনগণ যাতে কষ্ট না পায়, এজন্য ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তারপর সরকার লোকসান দিচ্ছে। এবং ভারতে এক লিটার তেলের দাম ছিল ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সা। তাহলে সরকার কি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে, না সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে, আপনারা তো এ ব্যাপারে কিছু বললেন না। এটা কোন ধরনের রাজনীতি। এই রাজনীতির কথা কি ইসলামে বলে। আমাদের মহান ধর্ম ইসলামে কি এই ধরনের ভণ্ডামির কোনো আশ্রয় আছে। নেই। আজকে আপনারা লংমার্চ করে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে নানা ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। মোড়ে মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ হচ্ছে, আর গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এসব করে আপনারা কাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। শেখ হাসিনার সেই ফেরাউনের রাজত্ব যদি আবার ফিরে আসে, আপনারা কি রেহাই পাবেন।











