spot_img
spot_img

সিরিয়ার ওপর ইসরাইলের হামলা আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের সাংঘর্ষিক: শারাআ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমাদ হুসাইন আল-শারাআ আল-জুলানী। একই সঙ্গে দামেস্কের ওপর ইসরাইলের হামলাকে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমাদ শারাআ বলেন, “আমাদের ফিরে আসায় বিশ্ব আনন্দিত। কিন্তু ইসরাইল সিরিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, ইসরাইল সিরিয়ায় ৫০০টি বিমান হামলা, ১ হাজার ২০০টির বেশি অনুপ্রবেশ এবং ৩০০টি আটকের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে আমরা যে দিকনির্দেশনা দেখতে পাচ্ছি, এটি তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা ইসরাইলের আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান করছি।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তব্যে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, সিরিয়ার ওপর ইসরাইলের হামলা প্রমাণ করে যে, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাইরেও ইসরাইলের ভূখণ্ডগত আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।

শারাআ বলেন, আমাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন যেকোনো প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া হবে। গোলান সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবেই থাকবে।

তিনি গোলান ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ দখলের নিন্দা জানান এবং ১৯৭৪ সালের চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। ওই চুক্তির মাধ্যমে সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে একটি জাতিসংঘের বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

১৯৬৭ সালে ইসরাইল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। ১৯৮১ সালে তারা অবৈধভাবে ভূখণ্ডটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করে। হাফিজ আল-আসাদের শাসনামলে সিরিয়া ও ইসরাইল একটি বিচ্ছিন্নতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তে একটি নিরাপত্তা কাঠামো এবং জাতিসংঘের বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শারাআর প্রতি তাঁর প্রশংসার বিষয়টি গোপন রাখেননি। ২০১৯ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি একতরফাভাবে ইসরাইলের দখলে থাকা গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার মধ্যে ছিল।

২০২৪ সালের শেষ দিকে সাবেক সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার পর শারাআ গত বছর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

আহমাদ শারাআ ক্ষমতায় আসার পর ইসরাইল দক্ষিণ সিরিয়ায় অভিযান চালিয়ে বাফার জোন দখল করে নেয়।

আমেরিকা সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করে আসছে। মঙ্গলবার একটি থিংক-ট্যাঙ্ক আয়োজিত অনুষ্ঠানে শারাআ বলেন, ইসরাইল তাঁর দেশে বিমান হামলা চালানো এবং গোলান মালভূমিতে তাঁর জন্মস্থান দখল করে রাখার সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করতে পারেন না।

গত মাসে ইসরাইল উত্তর সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। ইসরাইলের দাবি, তুরস্ক সেখানে সেনা মোতায়েন করার পরিকল্পনা করেছিল। সিরিয়া তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটি তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সিরিয়াকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন শারাআ।

আহমাদ শারাআ বলেন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আর বিচ্ছিন্ন নই। সিরিয়া আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং ক্যাপ্টাগন মাদকের বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। আসাদ সরকারের আমলে এই মাদক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।

তিনি আরও জানান, আসাদ আমলের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের কাজেও সিরিয়া সহযোগিতা করছে।

সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও শারাআর সরকার বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। এর মধ্যে দুর্বল অর্থনীতি এবং ধীরগতির পুনর্গঠন অন্যতম।

তিনি বলেন, সিরিয়া ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আমরা বিশ্বকে প্রমাণ করেছি যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তার সূচনা হতে হবে দামেস্ক থেকেই।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ