পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশে আসার কথা রয়েছে। জ্বালানি গ্রহণ ও পরিবহনের জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ।
সবকিছু ঠিক থাকলে রাশিয়া থেকে বিশেষ পণ্যবাহী উড়োজাহাজে এই পারমাণবিক জ্বালানি দুপুরের মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর শনিবার (৩ অক্টোবর) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় জ্বালানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত উড়োজাহাজের যাত্রা বাতিল করা হয়। পরে এক দিন পিছিয়ে শুক্রবার নতুন করে পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ পণ্যবাহী উড়োজাহাজে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে, সেসব দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় আগের চালানটি সময়মতো দেশে আনা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প পথ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার বা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা এটিকে আকাশপথ ও অনুমতিসংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য কয়েকটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃভরণের জন্যও পৃথক চালান রয়েছে। সব মিলিয়ে পর্যায়ক্রমে নয়টি চালানে জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও চালু করার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি নিরাপদে গ্রহণ ও প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।











