spot_img
spot_img

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি প্রকল্পে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এর উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিনির্ভরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় উৎপাদনশীলতা সংস্থা ও দৈনিক যুগান্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এনএসডি মূলত একটি নিয়ন্ত্রক বিষয় আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি একটি নীতিগত বিষয়। দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখলে চলবে না। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে একই ধরনের কার্যক্রম থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির নতুন প্রকল্প প্রস্তাবগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। কোনো নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থায় একই উদ্দেশ্যে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রকল্প চলমান আছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।

সরকারি প্রকল্পে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো গেলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য দেশ সেই বাজার দখল করবে। তাই কৃত্রিমভাবে বাজার সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের যে গভীর সংযুক্তি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা শুধু শিল্পকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। কম শ্রম ও কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক ও উন্নতমানের উৎপাদন নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত প্রমাণ করেছে যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা থাকলে সাধারণ শ্রমিকরাও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেন। তাই দেশের মূল ঘাটতি শুধু দক্ষতার নয়, নেতৃত্ব, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্পের ঘাটতিও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ