spot_img
spot_img

আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় ব্যবহৃত পুলিশ ভ্যান উদ্ধার, জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভকারীদের মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যবহৃত বলে উল্লেখ থাকা একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান প্রায় দুই বছর পর উদ্ধার করা হয়েছে। ভ্যানটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ জানান, ভ্যানটি জাদুঘরের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি প্রতীক ও তৎকালীন সময়ের ভয়াবহতার স্মারক। প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া ও অনুমোদন শেষে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইলে জমি উদ্ধারের একটি অভিযানের সময় ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার কাছে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের পর কয়েকজন নিহত হন। পরে পুলিশের একটি গাড়িতে মরদেহ তুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের তদন্তে সত্যায়িত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আশুলিয়ায় পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ গাড়িতে তোলা এবং পরে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানো এবং আরও একজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ মামলায় আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্যানটি উদ্ধারের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ আলামত এতদিন কীভাবে সংরক্ষিত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের সদস্যরা জানান, ভ্যানটি সরানোর খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। সংগঠনটির সভাপতি সালেহ মাহমুদ রায়হান দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ আলামতটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।

জেআরএর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের সদস্যরা ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। তারা ভ্যানের কাছ থেকে পোড়া হাড়, একটি চাবির রিংসহ কয়েকটি সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন, যেগুলো সম্ভাব্য আলামত হতে পারে। ভ্যানটি ভেঙে ফেলা বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।

তবে ভ্যানটি ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এমন দাবি অস্বীকার করেছে পুলিশ। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, থানায় মামলার আলামত রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ভ্যানটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রাখা হয়েছিল। জমির মালিক জায়গাটি ফেরত নেওয়ায় অন্যান্য আলামতের সঙ্গে ভ্যানটিও পুলিশের নিজস্ব কবিরপুর স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

এখন প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভ্যানটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ