spot_img
spot_img

আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করছে ইমারাতে ইসলামিয়া: মোল্লা বারাদার

অসমাপ্ত অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো শেষ করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইমারাতে ইসলামিয়া কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) কাবুলের আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে পঞ্চম সাধারণ ও আন্তর্জাতিক ইমাম আবু হানিফা (রহ.) প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাত দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী বুধবার শুরু হয়েছে।

প্রদর্শনীতে প্রায় ৬০০টি স্টলে শত শত দেশীয় কোম্পানি তাদের শিল্প ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্য, ওষুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, নির্মাণসামগ্রী, হস্তশিল্প, কার্পেট, প্লাস্টিক, লোহা গলানোর পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোল্লা বারাদার বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে, ব্যবসায়ীদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতা কমাতে এবং বেসরকারি খাতের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে ইমারাতে ইসলামিয়া কাজ করছে। কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এ প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ওয়াখান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পথের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান তার সীমান্তগুলোকে হুমকির স্থান থেকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত করতে চায়। একই সঙ্গে দেশীয় পণ্যের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে পেতেও কাজ করছে।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা, দেশীয় পণ্যকে সমর্থন করা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং আফগানিস্তান ও অঞ্চলটির মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য এ প্রদর্শনী একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, প্রদর্শনীটি বাণিজ্য ও উৎপাদন খাতে আফগানিস্তানের সম্ভাবনা যথাযথভাবে তুলে ধরবে। দেশের উৎপাদিত পণ্য, কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের পাশাপাশি শুকনো ও তাজা ফলের উচ্চমান বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং আফগান পণ্যের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে পেতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোল্লা বারাদার বলেন, “অঞ্চল ও বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। সেটি হলো তুলনামূলক ও পরম সুবিধা। এর মাধ্যমে দেশগুলো উৎপাদন, শিল্প ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ করতে পারে।”

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো দেশকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় না। কারণ পণ্য ও সামগ্রী উৎপাদনে প্রতিটি দেশেরই তুলনামূলক অথবা পরম সুবিধা রয়েছে। তিনি এটিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি মৌলিক প্রয়োজন ও চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ইমারাতে ইসলাম শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের অসমাপ্ত অধ্যায়গুলো শেষ করছে না। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে নতুন অধ্যায়ও শুরু করেছে। এসব অধ্যায় নিয়ে “ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্বিত হবে” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, ওয়াখান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পথটি চালু করা হয়েছে। এই সড়ক আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথে চীনকে ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক ট্রানজিট ও বাণিজ্যের একটি ব্যস্ত কেন্দ্রে পরিণত করবে। ট্রানজিট থেকে পাওয়া রাজস্বের পাশাপাশি এ পথের পাশে ধীরে ধীরে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে উঠবে বলেও জানান তিনি।

মোল্লা বারাদার জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা জোরদারে ইমারাতে ইসলামের প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে তারা দেশের সীমান্তগুলোকে হুমকির স্থান থেকে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত করতে চায়। তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

সূত্র : পাজওয়াক আফগান নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ