spot_img
spot_img

হরমুজ পুনরায় খুলতে আমেরিকার জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান: আরাঘচি

তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আমেরিকার দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার প্রত্যাশা করছে তেহরান বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে আরাকচি বলেন, “আলোচনা প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।”

আরাঘচি বলেন, “আমরা আমাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি। এটিকে ‘সাত দিনের পরিকল্পনা’ বলা হয়েছে। এর জবাবে আমেরিকানদের মতামতও আমরা শুনেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা বর্তমানে সেগুলো পর্যালোচনা করছি। আমি মনে করি কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা জবাব দেব।”

সাত দিনের এই উদ্যোগের মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু করা।

সাত দিনের পরিকল্পনা কী?

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আরাকচি বলেছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন গ্রহণ করলে ইরান সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দিতে পারে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে আমেরিকাকে সম্মত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর ফলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল আবার শুরু হতে পারবে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হবে।

তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শত্রুতা বন্ধ করা, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আমেরিকার নৌ অবরোধ বন্ধ করা।

সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের সময় কাতারের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

৩০ সেপ্টেম্বর ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে আমেরিকার জবাব আরাকচি পেয়েছেন। তবে তিনি জবাবের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।

হরমুজে উত্তেজনা

ইরান হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। ইরানের বক্তব্য হলো, তাদের শর্ত পূরণ এবং আমেরিকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।

পরবর্তীতে জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে কৌশলগত এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ