নিরাপত্তা উদ্বেগ ও চোরাচালান প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে ইরানের সঙ্গে গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্তপথে বাণিজ্য স্থগিত করেছে পাকিস্তান। এতে সীমান্তের দুই পাশে পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জারি করে। এতে ৩ অক্টোবর জারি করা আগের একটি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে প্রত্যাহার করা হয়।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা শহিদ রিন্দ জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও সীমান্ত বন্ধের বিষয়টি সাময়িক বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তপথে স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে।
এদিকে পাকিস্তানের কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত ব্যবসায়ীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন আমদানি-রপ্তানি আদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে। সীমান্তের দুই পাশে এলপিজি, চাল, তাজা ফলসহ বিভিন্ন পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে ডন। তবে রিমদান-গাবদ সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
গাবদ-রিমদান সীমান্তপথ দিয়ে প্রতিদিন ৪ হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানি করা হতো বলে ব্যবসায়িক ও জ্বালানি খাতের সূত্র জানিয়েছে। এ পথ বন্ধ থাকায় করাচিসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সংকট ও বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি ও বহু মানুষের জীবিকা হুমকিতে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এর আগে পাকিস্তান ও ইরান সীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সহজ করতে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যেই গাবদ-রিমদান ও তাফতান সীমান্তপথে বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সূত্র: ডন











