পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কোয়েটা, নুশকি ও খুজদার জেলায় তিনটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে ৮ ‘ভারতপৃষ্ঠপোষক’ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এসব অভিযানে খুজদার থেকে ৪৯০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
আইএসপিআর জানায়, কোয়েটা জেলার পাঞ্জপাই এলাকায় স্থানীয় যান চলাচল ব্যাহত করতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা ৫ সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়। নুশকি জেলায় একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২ জনকে হত্যা করা হয় এবং সেখান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। খুজদার জেলায় আরেকটি আস্তানায় অভিযানে একজন নিহত হয়। সেখান থেকে ৪৯০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব এলাকার অন্য সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও নির্মূল করতে অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অধীনে অনুমোদিত আজমে ইস্তেহকাম ভিশনের আওতায় বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে আইএসপিআর।
অভিযানের পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগটি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। প্রেসিডেন্ট জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীর আট সন্ত্রাসী হত্যার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও অভিযানের সাফল্যের প্রশংসা করেন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগটি বলেন, প্রদেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে। ১২ ও ১৩ অক্টোবরের রাতে ওয়াশুক জেলায় পৃথক এক অভিযানে ৫ সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএসপিআর। পরে প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় চালানো অভিযানে নিষিদ্ধ তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ৬ সদস্য, ২ সম্ভাব্য নারী আত্মঘাতী বোমারু এবং একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ কমান্ডারকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে বেলুচিস্তান সরকারের কর্মকর্তারা।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা জুলাইয়ের ৮৩টি থেকে আগস্টে বেড়ে ৮৯টিতে দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে প্রদেশটিকে ওই সময়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সূত্র: ডন, আইএসপিআর











