ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে দিল্লির ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ খালি করার জন্য ছয় দিনের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুনের বলেন, কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মসজিদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (L&DO) মসজিদটি খালি করার নোটিশ দেয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দপ্তরটির দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অননুমোদিত স্থাপনা। অন্যদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম সংগঠনগুলো মনে করেন, এটি ঐতিহাসিক ও ওয়াকফ সম্পত্তি।
ইমাম মোহাম্মদ হারুন বলেন, ছয় দিনের মধ্যে মসজিদ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতে সমস্যায় পড়ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
প্রায় ৪০ বছর ধরে মসজিদটির সঙ্গে যুক্ত থাকা ইমাম হারুনের বলেন, ২০২১ সালের একটি জরিপেও মসজিদটিকে অননুমোদিত স্থাপনা বা জবরদখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, নয়া দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তির তালিকায় মসজিদটি রয়েছে। এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকপত্রে দাবি করা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটেও মসজিদটি তালিকাভুক্ত রয়েছে।
মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় হস্তক্ষেপের দাবিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকপত্র দিয়েছে। এতে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে কোনো ভাঙচুর বা উচ্ছেদ কার্যক্রম না চালানোর দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শুনে কিরেন রিজিজু বিষয়টি সমাধানে ‘যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জমিয়তের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও লোকসভার সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের জন্য কিরেন রিজিজুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সাল থেকে মসজিদটি গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে রয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ২০২৩ সাল থেকে গঠিত না থাকায় এ বিষয়ে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ওয়াইসি আরও দাবি করেন, মসজিদটি ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ হিসেবেও আইনি সুরক্ষার আওতায় রয়েছে। তিনি মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
আম আদমি পার্টির নেতা ও ওখলার বিধায়ক আমানতউল্লাহ খানও মসজিদটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদটি ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়ের এবং এনডিএমসির ঐতিহ্যবাহী তালিকায়ও রয়েছে। মসজিদটি রক্ষায় তিনি নিজে সেখানে যাওয়ার কথা জানান।
এদিকে, রেস কোর্স রোড এলাকায় এর আগে বস্তি উচ্ছেদ নিয়েও আইনি কার্যক্রম হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্ট ২০২৬ সালের আগস্টে ওই এলাকার তিনটি ঝুপড়ি-বস্তির বাসিন্দাদের নির্ধারিত বিকল্প আবাসনে পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছিল।
রেস কোর্স মসজিদ নিয়ে বর্তমানে মূল বিরোধটি মসজিদের জমির মালিকানা ও আইনি মর্যাদা ঘিরে। ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অননুমোদিত স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করলেও মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম সংগঠনগুলো এর ঐতিহাসিক ও ওয়াকফ মর্যাদার কথা তুলে ধরে নোটিশ প্রত্যাহার ও মসজিদ রক্ষার দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: স্ক্রল, ইন্ডিয়া টুডে











