spot_img
spot_img

মাদক আড্ডায় গ্রেপ্তার ৮৫ জন, ৩৪ জন ঢাবি-নর্থ সাউথ-বিইউপি-কলেজ-ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী

রাজধানীর পূর্বাচলসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদক ও মদের আড্ডা থেকে আটক ৮৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩৪ জন শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ওই বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের আয়োজন চলত। তল্লাশিতে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে দৈনিক আমার দেশ। প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসও এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ৫ জন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে ৪ জন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ৩ জন করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষার্থী বা সাবেক শিক্ষার্থীর পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ দিনের কারাদণ্ড পাওয়া ২৬ নারীর মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রী। অন্যদিকে এক মাসের কারাদণ্ড পাওয়া ৫৯ পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রয়েছেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তার পরিচয়ও পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ের ওই বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের। বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। গত সোমবার রাতে সেখানে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের পর আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে ওএসডি করা হয়।

অভিযানে মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পুরুষদের এক মাস এবং নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আটকদের পরিচয় নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তালিকায় অনেকে পেশা, ঠিকানা ও অন্যান্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেননি। কেউ কেউ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাজাপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার দুই কন্যা, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের ছেলে-মেয়ে এবং একটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার ট্রেইনি ক্যাপ্টেন রয়েছেন। আটকদের পরিচয়, পেশা, সেখানে জড়ো হওয়ার উদ্দেশ্য এবং কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

খিলক্ষেত থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, ডিবির অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হয়নি। ডিবির তত্ত্বাবধানে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডিবি উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। তল্লাশিতে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট বাড়িটিতে একেকটি কক্ষে ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হতো। অতিরিক্ত লোক থাকলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা এসব আয়োজনে মাসে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি অনুষ্ঠান হতো। প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ