ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের আগ্রাসনের ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছে জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি বলেছেন, ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের মানবাধিকারব্যবস্থা আগ্রাসন, নৃশংসতা ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতোর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেন বাঘাই।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্য জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ওপর এই দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। বাঘাই আরও বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের অপরাধের জন্য ইরানকে দায়ী করতে জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদকের ভূমিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাই সাতোর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর ইরানের পক্ষ থেকে এসব মন্তব্য করা হলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ইরানের কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমনে পদক্ষেপ জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময় ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বেড়েছে। অর্থাৎ আমেরিকা ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও দেশটির কর্তৃপক্ষ সেই সংঘাতকে অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাঘাইয়ের বক্তব্যের আগে ইরান জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের ম্যান্ডেটের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে এসেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের ম্যান্ডেটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা











