কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনের জন্য একটি করিডর চালুর বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলের দোলমাবাহচে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, বেসামরিক জাহাজে হামলা এবং কৃষ্ণসাগরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে এমন কর্মকাণ্ড কোনো পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা করে না। হামলা যে পক্ষই চালাক এবং যে যুক্তিই দেখানো হোক, কোনো অবস্থাতেই তা মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
এরদোগান বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই কৃষ্ণসাগরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তুরস্ক সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সংঘাত কৃষ্ণসাগরেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাই কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তুরস্কের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও নতুন গতি পাবে। রাশিয়ার সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কৃষ্ণসাগরে সীমিত পরিসরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। এর লক্ষ্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্য ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ করা। আমেরিকা তুরস্ক ও ভারতের দেওয়া এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।
রুবিও বলেন, কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা এবং কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের সীমিত যুদ্ধবিরতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাবে না, বরং যুদ্ধের একটি নির্দিষ্ট দিকের সমাধানে সহায়তা করবে।
শস্য পরিবহন করিডর চালুর উদ্যোগ
জেলেনস্কি বলেন, কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে এরদোগানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জানান, কৃষ্ণসাগরে শস্য পরিবহনের একটি করিডর কার্যকরভাবে চালু রাখার বিষয়ে এরদোগানের সঙ্গে কাজ করতে তারা সম্মত হয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এ অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে তুরস্ক ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন ধারণা ও প্রস্তাব নিয়ে এরদোগানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তুরস্কে আলোচনার সম্ভাবনা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন গতি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এরদোগান। এ ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, তুরস্কে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলো প্রমাণ করেছে, কূটনীতির মাধ্যমে বাস্তব ফল অর্জন সম্ভব।
এরদোগান বলেন, ন্যায়সংগত শান্তিতে কোনো পক্ষেরই পরাজিত হওয়া উচিত নয়। শান্তির পথ তৈরি করতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে তুরস্ক প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এদিকে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া, ইউক্রেন ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় আলোচনার কাঠামো নিয়েও এরদোগানের সঙ্গে কথা হয়েছে। নভেম্বরের প্রথমার্ধে এ ধরনের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি তুরস্ক, ইউরোপ ও অন্যান্য অংশীদারকে যুক্ত করার সম্ভাবনা এবং তুরস্কে বৈঠক আয়োজনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সব পর্যায় থেকে রাশিয়াকে বার্তা দিতে হবে যে শান্তির কোনো বিকল্প নেই এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়











