স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংস করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অনস্বীকার্য অবদান থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনেই তিনি ভোট কারচুপি করেছিলেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনে কারচুপি করেছিলেন। অন্যদিকে, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা জানতেন, তাঁর সামনে এমন একটি শক্তিশালী বিরোধী দল রয়েছে, যাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাঁর সরকারের পরাজয় নিশ্চিত। এ কারণেই তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করেছিলেন। অথচ শেখ মুজিব নিশ্চিতভাবে জয়ী হবেন জেনেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনটিই নষ্ট করেছিলেন।
নির্বাচনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে সাধারণ নাগরিকের প্রতিবাদ করার বা নিজেদের অধিকার প্রকাশের আর কোনো জায়গা থাকে না। অনেকেই বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, দলটি কেবল নির্বাচন নির্বাচন করে। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত জনগণের ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করা হয়।
জাতীয় ঐকমত্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিভিন্ন আপত্তি নিয়ে কথা হলেও জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় দেখা গেছে, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা দ্বিমত পোষণকারী বিষয়গুলো রাখা হয়নি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় তাঁরা সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদায়ের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছাড়াই যে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা মূলত পরবর্তী সময়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে বেঁধে দিতে চেয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান ও গবেষক মাহমুদা হাবীবা প্রমুখ।











