রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। এ লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফেরার পথে বিমানে সাংবাদিকদের এরদোগান বলেন, তুরস্ক হিসেবে আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তির পথ তৈরি করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং তা অব্যাহত রাখব। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর এখন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আমরা বিষয়টির রুশ দিকটি নিয়েও আলোচনা করতে চাই।
চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তুরস্কের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এরদোগান বলেন, বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী ৮ নভেম্বর দেশটি সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তিনি বলেন, এই সফরের সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আমাদের হবে।
এরদোগান জানান, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে ইতোমধ্যে তার টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি নিজের গোয়েন্দাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আজারবাইজানে পাঠিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আলিয়েভের সঙ্গে এবং তাদের দুই পরিবারের মধ্যেও টেলিফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তুরস্ক ও আজারবাইজানের সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ইতিহাস ও নিয়তির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এরদোগান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক প্রচলিত কূটনৈতিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর বিস্তৃত।
তিনি বলেন, তুরস্ক ও আজারবাইজানের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এমন কোনো বাধা নেই, যা অতিক্রম করতে পারে না।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে এরদোগান বলেন, দেশটির প্রশাসন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সঙ্গে আঙ্কারা ‘ঘনিষ্ঠ সংলাপ’ অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তুরস্ক-আমেরিকা সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।
চলমান ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ প্রক্রিয়া সম্পর্কে এরদোগান বলেন, আইনি কাঠামোর মধ্যেই এ উদ্যোগের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি











