spot_img
spot_img

তাঁবুতে পানি, ঝড়ে উড়ে গেছে ছাউনি, গাজ্জায় বিপর্যস্ত লাখো ফিলিস্তিনি

দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস। গাজ্জা উপত্যকাজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের অসংখ্য তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গাজ্জায় বৃষ্টিপাত ও ঝড় শুরু হলে খান ইউনিস ও নুসেইরাতসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তাঁবুতে পানি ঢুকে পড়ে। মধ্য গাজ্জা ও গাজ্জা সিটিতেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। এতে আশ্রয়হীন পরিবারগুলো নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব তাঁবুতে বসবাস করছেন ইসরাইলি হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যরা। বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস থেকে রক্ষা পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আশ্রয় না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

প্রতি বছর শীতকালে বৃষ্টি, ঝড় ও বন্যার কারণে গাজ্জার তাঁবুতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বাড়ে। পর্যাপ্ত আশ্রয়, শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে বৃষ্টির পানি ও ঝোড়ো বাতাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।

আল জাজিরার ৫ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজ্জায় প্রায় ২ লাখ জরাজীর্ণ তাঁবুতে কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৮০০ তাঁবু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে শুকনো নদীখাত, বৃষ্টির পানি জমার স্থান ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা। শীতকালীন বৃষ্টি ও সমুদ্রের ঢেউয়ে এসব তাঁবু প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজ্জার শীতকালীন জরুরি কমিটি তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ের তীব্র সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বাধায় তাঁবু, অস্থায়ী ঘর, নির্মাণসামগ্রী ও জ্বালানি প্রবেশ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজ্জায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের গণহত্যামূলক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৬১৮ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২০ জন।

গাজ্জায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৬০২ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৪ জন।

সূত্র: আল জাজিরা, আখবার প্যালেস্টাইন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ