৭ নভেম্বরকে বিপ্লব হিসেবে ধারণ করলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেও বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার নিজেদের পক্ষে যায় এমন ঘটনাকে বিপ্লব বলে, আর নিজেদের পক্ষে না গেলে বা যেখানে তাদের নেতৃত্ব ছিল না, সেটিকে আন্দোলন কিংবা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দেয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঘুমিয়ে পড়েনি। আপনাদের সেটার প্রমাণ দিতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই’ বলে আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ নিয়ে ভাববেন, পুরো বিশ্ব নিয়ে ভাববেন, এর নামই বিশ্ববিদ্যালয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “বিশ্বে কোথায় কী চিন্তা হচ্ছে, কী ঘটছে, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে সেসব সম্পর্কে জানতে হবে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। আপনার চাকরির বাজার শুধু দেশে নয়, পুরো বিশ্বে আপনি নিজেকে কোথায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তা নিয়ে ভাবতে হবে।”
৭ নভেম্বর ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “৭ নভেম্বরকে আমরা ধারণ করি। ৭ নভেম্বর বিপ্লব, কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়? বর্তমান সরকার যা তাদের পক্ষে যায়, সেটাকে বিপ্লব বলে; আর যা তাদের পক্ষে যায় না বা যেটিতে তাদের নেতৃত্ব ছিল না, সেটাকে তারা বিপ্লব না বলে কেবল আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দেয়।”
উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা ৭ নভেম্বরকেও বিপ্লব মনে করি, আবার জুলাই বিপ্লবকেও বিপ্লব মনে করি, ঠিক কি না?
আগামী ডিসেম্বরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে নাকি কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন, আপনারা কি জানেন? আমরা কি প্রস্তুত আছি? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবার কি আছি? এবার প্রতিরোধ আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?
বিচার না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি, আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা ওসমান হাদীর ভাষায় বলেছিলাম, শত্রুর প্রতিও আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি; ওসমান হাদী হত্যার বিচার পাইনি, জুলাইয়ের শহীদ ভাই-বোনদের হত্যার বিচার পাইনি। জনগণ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।











