spot_img

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনে নতুন মাত্রা; সৌদি-কাতারের চুক্তি স্বাক্ষর

পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্যে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল গঠনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও কাতার।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের গুঞ্জনে সৌদি-কাতারের এই চুক্তি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে দাবী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায় গঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলটি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানীর যৌথ সভাপতিত্বে পরিচালিত হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, ড. মুসাঈদ আল আ’ইবান যিনি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি এবং কাতারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল থানী গত বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সৌদির ফিউচার সিটি নিওমে একটি বৈঠক করেন এবং কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল গঠনের লক্ষ্যে প্রোটোকলে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি দু’দেশের সুদুরপ্রসারি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে, দু’দেশের সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ এবং উভয়ের ভিশন ২০৩০ এর প্রতি লক্ষ্য রেখে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে বিস্তৃত দিগন্তের রূপ দিতে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলটি বিশাল কর্মযজ্ঞ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞরা যখন মনে করছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠন বা পুনর্বিন্যাস হতে চলেছে তখনই আরব দেশ দুটি এই উদ্যোগ গ্রহণ করে যা তাতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তাছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রতিটি খাতে করোনা মহামারীর প্রভাব ও ট্রাম্প পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনে রদবদল, প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রাসনের আকাঙ্খা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে যা তাদের নিজেদের মাঝেই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে একজন সিনিয়র আরব সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, পরিস্থিতি যে পরিমাণ জটিল আকার ধারণ করেছে তাতে সকলেই আতঙ্কিত ও হতাশ হয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক ভাবে বিভিন্ন বিষয়ে স্থিতিশীলতা আনয়ন ব্যতীত অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত দুষ্কর হবে উল্লেখ করে ওই সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা বলেন, দেখুন, অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ এর খারাপ প্রভাবকে অবমূল্যায়ন করা আপনার উচিত হবে না। আপনি তা অবমূল্যায়ন করতে পারেন না।

কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকরা এসকল বিষয়কে স্নায়ুবিক শান্তি (কৌশলগত শান্তি) এবং ট্রাম্পের উন্মত্ততা পরবর্তী বাস্তববাদী পরিবর্তন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক সিনিয়র ফেলো আমিল হাকীম বলেন, এই স্থিরতার স্থায়িত্ব নেই। আর তা বিপরীতমুখীও বটে। কেননা এই স্থিরতা ক্ষনিকের আঞ্চলিক পরিস্থিতির বিবেচনা প্রসূত। মননে ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ