বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

অবশেষে হিন্দু হলেন কুরআনের আয়াত বাতিলের মামলা করা সেই শিয়া নেতা ওয়াসিম রিজভি

কুরনানের ২৬টি আয়াত অপসারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদনকারী ভারতের উত্তর প্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজভি ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। তার নয়া নাম হয়েছে জিতেন্দ্র নারায়ণ ত্যাগী। একেরপর এক ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্য ও তৎপরতার কারণে দিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনায় ছিলেন ওয়াসিম রিজভি।

সোমবার হিন্দু ধর্ম গ্রহণের পর তিনি বলেন, আমাকে যখন ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তখন আমি কোন ধর্ম গ্রহণ করব সেটা আমার ইচ্ছা। তার দাই-সনাতন ধর্মই পৃথিবীর প্রথম ধর্ম, তাতে যতটা মঙ্গল পাওয়া যায়, অন্য কোনো ধর্মে নেই।

কে এই ওয়াসিম রিজভি?

উত্তর প্রদেশে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র যোগি আদিত্যনাথ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওয়াসিম রিজভি নিরন্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।

১) ওয়াসিম রিজভি দেশের ৯টি মসজিদ হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে অবস্থিত মসজিদটিকে ভারতের মাটিতে কলঙ্ক হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন।

২) মাদ্রাসার শিক্ষাকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেছিলেন।

৩) কয়েক মাস আগে তিনি পবিত্র কুরআনের ২৬টি আয়াত অপসারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন, যা আদালত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছিল।

হিন্দু ধর্ম গ্রহণকারী ওয়াসিম রিজভির জন্ম শিয়া পরিবারে। তার বাবা রেলওয়ের কর্মচারী ছিলেন। রিজভি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিলেন, তখন তার বাবা মারা যান। ওয়াসিম রিজভি তার ভাইবোনদের মধ্যে বড় ছিলেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তিনি সৌদি আরবে একটি হোটেলে চাকরি করতে যান এবং পরে জাপান ও আমেরিকাতে কাজ করেন।

ওয়াসিম রিজভি একসময়ে শিয়া আলেম কালবে জাওয়াদের সংস্পর্শে আসেন এবং শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য হন। রিজভি দু’টি বিয়ে করেছিলেন এবং উভয়ই বিয়েই লক্ষনৌতে হয়েছিল। রিভজির প্রথম স্ত্রী থেকে তিনটি সন্তান রয়েছে যার মধ্যে দু’টি কন্যা এবং একটি পুত্র রয়েছে। তিন সন্তানেরই বিয়ে হয়ে গেছে।

২০০৩ সালে উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির (সপা) মুলায়ম সিং যাদব যখন মুখ্যমন্ত্রী হন, ওয়াকফ মন্ত্রী আজম খানের সুপারিশে, ‘সপা’ নেতা মুখতার আনিসকে শিয়া কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। কিন্তু আনিসের আমলে, লক্ষনৌয়ের হযরতগঞ্জে একটি ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কালবে জাওয়াদ। মাওলানার কঠোর অবস্থানে বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় মুখতার আনিসকে। এরপরে ২০০৪ সালে মুলায়ম সিং যাদবের কাছে কালবে জাওয়াদের সুপারিশে, ওয়াসিম রিজভিকে শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।

হিন্দু ধর্ম গ্রহণের পরে ওয়াসিম রিজভির দাবি- তিনি ইসলামকে ধর্ম বলে মনে করেন না। প্রতি জুমার নামাজের পর তার মাথা কেটে ফেলার ফতোয়া দেওয়া হয়, তাই এমন পরিস্থিতিতে কেউ তাকে মুসলিম বললে তিনি লজ্জিত হন।

কিছুদিন আগে তিনি তার অসিয়তনামায় লিখেছিলেন, তার মৃত্যুর পর তাকে যেন দাফন না করা হয়, হিন্দু রীতি অনুযায়ী দাহ করা উচিত। এবং ইয়েতি নরসিংহানন্দ যেন তার চিতায় আগুন দেয়।

পার্সটুডে

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ