মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে আরও বড় ধরনের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা তৈরি হবে এবং অনিশ্চয়তা কমে আসবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে নতুন একটি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও স্থায়ী শান্তির জন্য যৌথভাবে কাজ করা এবং এ লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অন্য দেশগুলোরও এই জোটে যোগদানের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর শর্ত, প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডের বিষয়ে জোটে যোগ দিতে আগ্রহী দেশগুলোর পাশাপাশি জোটের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা প্রয়োজন।
জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে ফিদান আরও বলেন, ‘জোটটি মূলত সম্প্রসারণের জন্যই গঠিত হয়েছে। তবে শুরুতেই এর ভিত্তি খুব ভালোভাবে তৈরি করা প্রয়োজন। এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও খুব ভালোভাবে গড়ে তুলতে হবে। সৌদি আরব ও পাকিস্তান উভয়েই এ বিষয়ে আমাদের মতোই অত্যন্ত সংবেদনশীল।’
তিনি বলেন, একদিকে এমন একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করতে হবে, যা সমস্যাগুলোর দায়িত্ব নিতে সক্ষম এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। অন্যদিকে, জোটটি সম্প্রসারণের বিষয়েও তারা একমত। তবে এই সম্প্রসারণ একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য কোনো নতুন মিত্রকে ভালো অবকাঠামোসম্পন্ন, প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর একটি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। ‘আমরা বর্তমানে এই কাজের কঠিন অংশ, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর্যায়টি সবাই মিলে শেষ করার চেষ্টা করছি।’
ফিদান বলেন, ‘এই জোটের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাব, অঞ্চলে ধীরে ধীরে আরও বড় ধরনের স্থিতিশীলতা তৈরি হবে এবং অনিশ্চয়তা কমে আসবে। বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও আচরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, অনিশ্চয়তা কমে গেলে যে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হবে, তার ওপর ভিত্তি করে আরও বেশি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার, ফেডারেল প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান মার্শাল আসিম মুনির।
সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।











