বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ এবং প্রান্তিক মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হলে ‘শ্রমিক অভ্যুত্থান’ ঘটবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক নেতারা। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে গ্যারেজ উচ্ছেদ ও বৈধ বিদ্যুৎ মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের নামে সরকার ‘বৃহৎ লুটেরা পুঁজির’ স্বার্থে ভুলনীতি গ্রহণ করেছে। তাঁর অভিযোগ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা বলা হলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করা বৈধ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এর ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সরকারকে এ নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে জলি তালুকদার বলেন, প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান উচ্ছেদ করে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে শ্রমিকরা ‘অভ্যুত্থানের মাধ্যমে’ দেশকে সঠিক নীতিতে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, সরকারের নীতি ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট যানজট ও বিদ্যুৎ সমস্যার দায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, কেউ শখ করে রিকশাচালক হন না। জীবন-জীবিকার বাস্তবতায় মানুষ এ পেশায় যুক্ত হন। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে তাদের জীবিকা থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না বলেও তারা জানান।
তারা আরও বলেন, সঠিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বজায় রেখেই যানজট ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অর্থনৈতিক ভূমিকা অস্বীকার করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হলে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিরোধ করবেন বলেও জানান তারা।
সমাবেশে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর-গেন্ডারিয়া অঞ্চল কমিটির সমন্বয়ক রিপন হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি মিন্টু মোল্লা, শ্যামপুর থানার সভাপতি মো. রাকিব, গেন্ডারিয়া থানার সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান ও অঞ্চল কমিটির নেতা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।











