বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে দেশের আবাল বৃদ্ধ-বনিতা ঘরে, রাস্তায়, কর্মস্থলে সব জায়গায় নিরাপদ থাকবে। আমরা এমন একটা দেশ দেখতে চাই যেখানে চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের জ্বালায় মানুষ অতিষ্ঠ হবে না। আল্লাহ যতদিন আমাদের তৌফিক দিবেন ততদিন আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে চাই দেশকে এইভাবে দেখার জন্য।
আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে নিজ উপজেলা কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠে উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা অপদার্থ শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না। শিক্ষিত হয়ে যাতে কেউ ডাকাতে পরিণত হয়, সেই ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না। যাদের অন্তরে মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই, এরকম ডাক্তার, শিক্ষক, আইনজীবি চাই না। জামায়াতে ইসলামীই শুরুতেই চা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলেছিলো উল্লেখ কওে তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হলে মালিক এবং শ্রমিক উভয়েই লাভবান হবে। শ্রমিক উপযুক্ত শ্রমের মূল্য পেয়ে আনন্দদের সাথে কাজ করবে। যার ফলে মালিক আরও লাভবান হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাকে যুদ্ধপরাধ মামলার আসামি করার জন্য ভয় দেখানো হয়েছিল। কুলাউড়ার অনেক মানুষকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কুলাউড়ার কোন মানুষই স্বাক্ষী দেননি। যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১২ বছর। জামায়াত বা শিবির করার আগে আমি যে ছাত্র সংগঠন করতাম এখন এই সংগঠনের নাম নিতে লজ্জা হয়। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরকে নিষিদ্ধ করেছিল তখন আমি দু‘আ করেছিলাম যারা হকের উপর আছে আল্লাহ যেন তাদের সহযোগিতা করেন। যারা হকের উপর নাই আল্লাহ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের আগে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ২৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে। দেশে তারা জমিদার ছিল আমরা প্রজা ছিলাম। ওই সরকার কোন দিনই মানুষের সাথে ভালো আচরণ করেনি।