অনলাইন একটিভিস্ট সাদিকুর রহমান খান বলেছেন, চুপ্পুই যদি রাষ্ট্রপতি থাকে, চুপ্পুর ছেলের থ্রেটই যদি খেতে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা কী দোষ করেছে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে সাদিকুর রহমান খান বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আনিস আলমগীরের মতো শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের ফোন দেওয়া হচ্ছে, মাথায় তোলা হচ্ছে। এরপর ছাত্রলীগ বিশাল মিছিল বের করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে তাড়িয়েছিল এই দেশের সাধারণ মানুষ। মরেছিলও সাধারণ মানুষ। অথচ আওয়ামী লীগকে কোলে তুলে নিতে সবাই যখন প্রতিযোগিতা করছে, তখন আওয়ামী লীগ বরং আসুক।
সাদিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর জুলাইয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ১৭ বছর পর একটি সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগকে কোলে তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ রক্ত দিয়েছে, ক্ষমতা পেয়েছেন আপনারা। আর ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। আওয়ামী লীগের দালালদেরই আবার কাছে টেনেছেন, জুলাইয়ের বিপ্লবীদের ছোট করেছেন। এমনকি শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়ে নোংরামি করতেও আপনাদের অন্তর কাঁপেনি।
তিনি আরও বলেন, এই মিছিল তো মাত্র শুরু। লীগের সফট পাওয়ার অক্ষত ছিলই। এখন হার্ড পাওয়ার রাস্তায় আসার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়া আর বন্ধুদেশ মিলে এমন বাস্তবতা তৈরি করবে, যা না মানা যাবে, না কান্না করা যাবে।
সাদিকুর রহমান বলেন, মণির লোভে সাপকে কোলে তুলে আদর করার পরিণতি কী হয়, তা বুঝতেই হবে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা সাধারণ মানুষ, এমনেও মরব, অমনেও মরব। মার খাওয়া আর মরাই আমাদের নিয়তি, আমরা এটা মেনেও নিয়েছি।
তিনি বলেন, যারা ১৭ বছর ভুলে তিন মাসের ক্ষমতার বৈরাগী হয়ে রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন, তাদের পরিণতি দেখতে খুব মন চায়।
তিনি আরও বলেন, কিছু বললেই ১৭ বছরের ইতিহাস দেখানো হয়। অথচ ১৭ বছর কে কোন গর্তে ছিলেন, তা সাধারণ মানুষ জানে। আমরা সাধারণ মানুষ। বায়োস্কোপ দেখাই আমাদের কাজ। ১৭ বছরের বায়োস্কোপ খুব সম্ভবত দ্রুতই আবার দেখতে পাব।
সাদিকুর রহমান খান বলেন, আগে ভয় লাগত। এখন আর লাগে না। বরং আল্লাহর কাছে সবসময় একটি কথাই বলি, এত এত মানুষের রক্তের সঙ্গে যারা বেঈমানি করেছে, তাদের পরিণতিও যেন দেখার মতো হয়।
তিনি বলেন, ২ হাজার শহীদের রক্তের আমানত আল্লাহ এই দেশের রাজনীতিবিদদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সকল দলের রাজনীতিবিদ মিলেমিশে সেই রক্ত সস্তা দামে বিক্রি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা শহীদদের প্রতি ইনসাফ করতে ব্যর্থ হয়েছি। ছোট্ট আনাস বা রিয়া গোপের খুনিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। এবার তবে আল্লাহর বিচারই আসুক।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, আমাদের কাজ একটাই, নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতির জন্য অপেক্ষা করা। বিশ্বাসঘাতকদের একমাত্র স্থান নরকের সর্বনিম্ন স্তরে। ২ হাজার শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা আমরা যেন সেই নরকের জন্য প্রস্তুত থাকি।











