ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি রেজাউল করীম বলেছেন, সরকার অতিমাত্রায় ভারতপ্রেমী হওয়ায় ভারতের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে পারছে না। ভারতের পানি আগ্রাসন ও সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার কোন কার্যকরি পদড়্গপে নিতে পারছে না।
চরমোনাই পীর বলেন, ভারতে বিজেপি নেত্রী কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. এর শানে কটুক্তির প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠলেও আমাদের সরকার ভারত-এর বিরম্নদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে পারেনি। তাদের কাছে নবীর ভালবাসার চেয়েও ভারতের ভালবাসা বেশি।
আজ (২ জুলাই) শনিবার বিকেলে ভারতের পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইটে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীকে কেন্দ্র করে আমাদের সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। শত-শত নদীর গতিপথ ধরে বিকশিত হয়েছে জীবন, গড়ে উঠেছে জীবিকা প্রবাহ। অথচ দেশের সরকারগুলোর ভুল নীতি, ভারতীয় পানি আগ্রাসন ও সরকারগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এই দেশটাকে মরম্নভুমি বানিয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, বন্যায় সয়লাব করে জীবন-জীবিকা ধ্বংস করছে। বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলিমিটার নৌপথ ছিলো। বর্তমানে তা ৪ হাজার কিমিতে নেমে এসেছে। স্বাধীনতার পরে শুকিয়ে গেছে ১৫৮টি নদী।
চরমোনাই পীর বলেন, ভারতের সাথে যৌথ ৫৪টি নদীসহ দেশের প্রধান পানির প্রবাহগুলোকে ভারত ফারাক্কা, গজলডোবা ইত্যাদি বাধ দিয়ে মেরে ফেলেছে। প্রয়োজনীয় মুহুর্তে পানি আটকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ধ্বংশ করছে আর বর্ষার সময়ে পানি ছেড়ে দিয়ে ফসল নষ্ট করছে, মানুষ হত্যা করছে।
চরমোনাই বলেন, আমাদের সরকারগুলো ভারতের অন্যায্য পানি প্রত্যাহার ও বাঁধ নির্মানকে যৌথ আলোচনা বা আšত্মর্জাতিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারে নাই। বছরের পর বছর ভারত অব্যাহতভাবে পানি আগ্রাসন চালিয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিনষ্ট করছে অথচ সরকারগুলো কোন ধরনের প্রতিকার করতে পারে নাই বরং নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারতীয় পানি আগ্রাসন এখন দেশের মানুষের বাঁচা-মরার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। সরকারগুলোর এই ব্যর্থতা আর মেনে নেয়া যায় না।
তিনি বলেন, এই সরকার বিগত একযুগের বেশি সময় ধরে জনমতকে উপেড়্গা করে ড়্গমতায় জেঁকে বসে আছে। ভোটাধিকার হরণ করা, খুন-গুম করে ভিন্নমত দমন করা, উন্নয়নের নামে সীমাহীন লুটতরাজ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আছে।
তিনি বলেন, এরা দেশের তরম্নণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে মদসহ মাদকের সয়লাব ঘটাতে মদের লাইসেন্স দিচ্ছে, শিড়্গা থেকে ধর্মীয় শিড়্গাকে সরিয়ে দিচ্ছে।
চরমোনাই পীর বলেন, দুর্নীতি, দলীয় কর্মী তোষণের কারণে দ্রব্যমূল্য জনতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। মানুষ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে আর সরকার উন্নয়ন দেখিয়ে লুটতরাজ সমাপ্তির উৎসব করেছে।
তিনি বলেন, সার্বিকভাবে এই সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিকদের সম্মান-সমৃদ্ধি ও সম্ভবনার জন্য বিপদজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য একটি গণ আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারি মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, কেএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারী জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা নুরুল করীম আকরাম, শ্রমিকনেতা আব্দুর রহমান ও ডা. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।










