মাদ্রাসা শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
রোববার (৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ‘শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪’-এর তথ্যমতে, মাদরাসা শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষিতের হার মাত্র ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। এমনকি এ হার বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিগত ১৩ বছরেও যে এই হার খুব ভালো ছিলো তা না। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৬৯ শতাংশে পৌঁছে। এর অর্থ হলো, মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষক সর্বদাই প্রশিক্ষনের বাইরে ছিলো। মাধ্যমিকে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের হার ৬৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থ্যাৎ বৈষম্য তীব্রভাবে প্রকট। রাষ্ট্র তার জনগোষ্টির সাথে এমন বৈষম্য করতে পারে না। এই বৈষম্য দূর করতেই হবে। সেজন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
মাওলানা ইউনুস বলেন, দেশে মাদরাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ খুবই সীমিত। কার্যত একটি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে দক্ষ করে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় পিটিআই রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্যও জেলায় জেলায় রয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। অথচ মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য তেমন অবকাঠামো নেই। দীর্ঘ মেয়াদে জেলায় জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। আর আশু সমাধান হিসেবে জেলা পিটিআইগুলোতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা যেখানে মিড-ডে মিল, উপবৃত্তি, পোশাকসহ নানা সুবিধা পাচ্ছে; সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এসব থেকে বঞ্চিত। এমনকি সরকার সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা খাতে যেসব উদ্যোগের কথা বলছে তার বেশির ভাগই সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রিক। এটা লজ্জাজনক। একই মায়ের দুই সন্তানের একজন মাদ্রাসায় পড়ার কারণে যে ধরণের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা কোন সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। আমরা সরকারকে বলবো, নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য করবেন না। সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করুন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণাও ছিলো বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণ করা। তাই মাদ্রাসা শিক্ষা যে ধরণের বৈষম্যের শিকার হয়েছে তা দুর করতেই হবে।











