ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, বিশৃঙ্খলা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও অস্থিরতা ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব। আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন পুলিশ আইন প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ‘শুরতা’ বা পুলিশ আইনে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা মুজাহিদ বলেন, আইনটি ইসলামি শরিয়াহ এবং আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে অনুমোদিত পুলিশ আইনটি আফগানিস্তানের পরিস্থিতির জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আমরা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি এবং এ বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরাধ প্রতিরোধে যা প্রয়োজন, তা এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, “ইসলামি আইনে বিক্ষোভ বলে কিছু নেই। কারণ বিক্ষোভ সেইসব সমাজে প্রযোজ্য, যেখানে ভিন্ন ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে অথবা যেখানে গণতন্ত্র বা প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে।”
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের কোনো অভিযোগ থাকলে তা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে বিশৃঙ্খলা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও অস্থিরতা ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে শাইখুল হাদিস মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর নতুন ‘শুরতা আইন’ বা পুলিশ আইন সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে আফগানিস্তানের বিচার মন্ত্রণালয়।
৫৩ ধারার এই আইনের ৫০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
নতুন পুলিশ আইনটি এমন সময়ে কার্যকর হলো, যখন বাদাখশান ও হেরাত প্রদেশে ইমারাতে ইসলামিয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কয়েকটি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিক্ষোভের কয়েকটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
সূত্র : আমু টিভি











