পঞ্চগড়ে অমুসলিম কাদিয়ানীদের জলসাকে কেন্দ্র করে নিরীহ মুসল্লীদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুযে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪ ঘটিকায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলুম মাদরাসায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি মাওলানা মাহফুজুল হক, মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী, সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মাসউদুল করীম, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী রুহুল আমীন বাহাদুরপুরী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মুসা, প্রচার সম্পাদক মাওলানা রাশেদ বিন নূর প্রমূখ।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, খতমে নবুওয়তের আক্বিদা ও বিশ্বাস মুসলমানদের ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র মানব জাতীর জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর নবুওয়তের সার্বভৌমত্ত্ব কোনও কালেই খর্ব হবে না। আল্লাহর তরফ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত নতুন কোনও নবীর আবির্ভাব হবে না। এ বিশ্বাস যে কোনও ব্যক্তির পক্ষে নিজেকে মুসলমান রূপে পরিচিত করার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত।
বক্তারা আরও বলেন, কাদিয়ানিরা অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের মুসলমান দাবি করে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে ঈমানহারা করছে। গতকাল শুক্রবার কাদিয়ানিরা অসাংবিধানিকভাবে মুসলমানদের পরিভাষা ব্যবহার করে তিন দিনব্যাপী সালানা জলসা করার উদ্যোগ নেয়। তাদের জলসা বন্ধ করার দাবিতে পঞ্চগড়ের সর্বস্তরের মুসলমানগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজপথে নেমে আসে। সেই ন্যায় সংগত প্রতিবাদী আন্দোলনে বিনা উস্কানিতে নিরীহ মুসলমানদের উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে আরিফুজ্জামান নামে একজন মুসলিম যুবক ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করে, আহত হয় শতাধিক। এদের মাঝে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। প্রশাসনের এমন অহেতুক, অযাচিত হামলা ও গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।
তারা বলেন, গতকালের হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঈমানী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কাউকে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি করা যাবে না। নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে তাদের যাবতীয় বইপুস্তক, লিটারেচার, লিফলেট, পাক্ষিক, মাসিক পত্র-পত্রিকা মুদ্রণ, প্রচার, সংরক্ষণ, বিতরণ ও সভা সমাবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। দ্রুত সময়ে আমাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না করলে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সম্মেলনে দেশবাসীর নিকট শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ আহবান জানানো হয়।











