ক্ষমতাসীনদের কাছে ‘আদালত অসহায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সাজাপ্রাপ্ত হাজী সেলিমের বিদেশ যাত্রার ঘটনায় তিনি এমন্তব্য করেন।
বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, দুর্নীতির মামলায় হাজী সেলিম আত্মসমর্পন না করেই দেশ ছেড়েছেন। নির্ভিগ্নে তার বিদেশ পাড়ি দেয়ার ঘটনায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীদের কাছে আদালত অসহায়।
তিনি বলেন, র্যাব-পুলিশ যেভাবে বিরোধী দল-মতের মানুষের পেছনে লেগে আছে, দৃশত আদালতের ভূমিকাও প্রায় একই ধরনের। সরকার দেশের আইন-আদালত-বিচার-প্রশাসন সব কিছু দলীয়করনের ঘনকালো আলকেল্লায় ঢেকে দিয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দেয়া ‘দণ্ডিত আসামির দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই’ বক্তব্য তুলে ধরে প্রশ্ন রেখে রিজভী বলেন, হাজী সেলিমের সেই সুযোগ কিভাবে হলো? আইন যদি সবার জন্য সমান হয় তাহলে কোন আইনে সাজাপ্রাপ্ত হাজী সেলিম চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলেন? এখানে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এক আইন আর হাজী সেলিমের জন্য অন্য আইন কোন সংবিধানে, কোন গ্রন্থে আছে?
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আদিম বন্য শাসন চলছে দেশের প্রতিটি সেক্টারে। দেশে চলছে দুই আইন। আইন ও বিচারের চোখ কানা করে দিয়েছেন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। মুজিব কোটধারী আওয়ামী লীগার ও প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়া প্রাপ্তরা দেশের সকল আইন কানুনের ঊর্ধ্বে। হীরক রানীর দেশে তাদের জন্য সাত খুন মাফ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বিএনপি এবং বিরোধী দল ও মতের মানুষের জন্য প্রতিহিংসামূলক ও গণভবনের ওহি দিয়ে চলছে বিচারিক সিদ্ধান্ত। বিএনপির জন্য আদালতগুলো ক্যাঙ্গুরা কোটে পরিণত করা হয়ে্ছে, বিচারালয়গুলো ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার মেসিনে পরিণত হয়েছে। এটাই এখন শেখ হাসিনার তথাকথিত ন্যায় বিচারের নতুন মডেল।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালাম আজাদ, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা: জাহিদুল কবির প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









