গাজ্জা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের মধ্যেও গত পাঁচ বছরে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। ২০২০ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি থেকে আয় ছিল ৮৩০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য ডিফেন্স ডিভিডেন্ড অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি এবং আরব দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে গাজ্জায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে আনসারুল্লাহ বা হুথি বাহিনী এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরাইল। এসব সংঘাতের মধ্যেও দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি ৮৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
আইআইএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাহরাইন, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির পরিমাণ ছিল মোট ৮৮০ কোটি ডলার। এ তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২২ সালে তিন দেশে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ওই বছর ইসরাইলের মোট প্রতিরক্ষা রপ্তানির ২৪ শতাংশ ছিল এসব দেশে।
২০২২ সালে ইসরাইলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘স্পাইডার-এমআর’ বিক্রি করে। একই সময়ে এলবিট সিস্টেমস ও ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজসহ আরও কয়েকটি ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান আমিরাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে।
তবে দুই পক্ষের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শুধু অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতাও বাড়ছে। আইআইএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ইডিজিই এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিনিয়োগ তহবিল অন্তত আটটি ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ সেন্সর ও মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যালয় স্থাপন করেছে। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।
গাজ্জা যুদ্ধের কারণে আব্রাহাম চুক্তির কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আমিরাতের ওপর ইরানি হামলার কারণে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে আইআইএসএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)











