মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজ দলের পরাজয়ের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বিষয়ে তার নীতির সঙ্গে ভোটাররা একমত। তবে জ্বালানির বাড়তি দাম পরিশোধের স্বল্পমেয়াদি চাপ মেনে নিতে তারা ‘সম্ভবত প্রস্তুত ছিলেন না’। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে আমি যা করছি, মানুষ তার সঙ্গে একমত। কিন্তু বেশি দামে জ্বালানি কেনার স্বল্পমেয়াদি পরিণতি মেনে নিতে তারা সম্ভবত প্রস্তুত ছিলেন না। আপনারা জানেন, আমি বিষয়টি বুঝতে পারছি।
ট্রাম্প বলেন, আমি মানুষকে বলব, এটি একটি স্বল্পমেয়াদি সমস্যা, তবে এর বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদে লাভ হবে।
তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইওয়া অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ১.৮৫ ডলারে নেমে এসেছিল। একই সঙ্গে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই’ আবার জ্বালানির দাম কমে আসবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে আমি সঠিক কাজটিই করেছি। আমার বিশ্বাস, সঠিক কাজ করার জন্যই ইতিহাসে আমার মূল্যায়ন হবে। তবে এর কারণে আমাদের এমন একটি সন্ধ্যা কাটাতে হয়েছে, যা খুব একটা সুখকর ছিল না।
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি আপনাদের এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না… তবে অবশ্যই, ইরান আচরণ ঠিক না করলে আমি পদক্ষেপ নেব।”
তিনি বলেন, তারা যদি আচরণ ঠিক রাখে, তাহলে আমরা একটি চুক্তি করতে পারি। আর সেই চুক্তি যদি বাধ্যতামূলক ও ভালো হয় এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তাহলে ভালো। অন্যথায়, আমি খুব সহজেই কাজটি শেষ করে দেব।
নির্বাচনের ফলাফলে তিনি ‘কিছুটা বিস্মিত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কয়েকটি আসনে পরাজয়ের জন্য এমন প্রার্থীদের দায়ী করেছেন, যারা ভোটারদের ‘অনুপ্রাণিত করতে পারেননি’।
এমন সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এসেছে, যখন মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে দলটি। এর ফলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে বিরোধী দলের প্রার্থীদের ‘জোরালো লড়াইয়ের’ প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, এই ফলাফল তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ‘আঘাত’ নয়।
নিজের মেয়াদের বাকি দুই বছর ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “তারা এমন সব অযৌক্তিক প্রস্তাব পাঠাবে, আর আমি সেগুলোতে ভেটো দেব।
তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘দুইজন সিনেটর ও তিনজন কংগ্রেস সদস্য’ ইতোমধ্যে তাঁকে ফোন করেছেন।
নিজের মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, আমার তা মনে হয় না। এর সঙ্গে আমার মন্ত্রিসভার কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসনসহ ‘অনেক অনেক বিষয়ে’ তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। তবে তিনি যাকে ‘উন্মুক্ত সীমান্ত’ বলেছেন, সে বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, অভিবাসন নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারি। অভিবাসন একটি বড় বিষয়। আমি সবসময়ই মনে করেছি, অভিবাসন নিয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে পারা উচিত।
এদিকে, পলিটিকোকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আইন প্রণয়নে ভেটো দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা তার রয়েছে। তবে দুই বছর ধরে বিভিন্ন বিলে ভেটো দেওয়ার পরিবর্তে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করতেই তিনি বেশি আগ্রহী।
ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
এদিন এর আগে ওয়াশিংটন ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, আমরা ইসরাইলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিই। এর মধ্যে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তাও রয়েছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। মানুষ এই সহায়তা ব্যবহার করে, অথচ তাদের এর প্রয়োজন নেই। এ সময় তিনি আরও বলেন, ইসরাইল ‘বেশ সচ্ছল হয়ে উঠেছে’।
ট্রাম্প জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি এ বিষয়ে খুব সামান্যই আপত্তি জানিয়েছেন। আসলে একপর্যায়ে তিনিই বিষয়টি প্রস্তাব করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা তাদের আর কোনো অর্থ দেব না।
ইসরাইলকে আমেরিকার সামরিক সহায়তা ১০ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত হয়। ২০১৬ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এতে ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, কংগ্রেসের বরাদ্দ অনুমোদন সাপেক্ষে ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অর্থাৎ বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রতি বছর ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন অনুদান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি











