ইশতেহারকে জাতির প্রতি একটি প্রতিজ্ঞা উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম বলেছেন, রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য জরুরি ব্যবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই তাদের মূখ্য অঙ্গিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র শরীয়াহ-র প্রাধান্য নিশ্চিত করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় দলটি তাদের ইশতেহার উপস্থাপন করে। ইশতেহারের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে “জনপ্রত্যাশার ইশতেহার”। ঘোষণাপত্রে ‘মৌলিক ইশতেহার’ অংশে ৩১টি বিষয় তুলে ধরা হয়, যেখানে রাষ্ট্রের নীতিগত সংস্কার, সুশাসন, বিগত আমলে সংগঠিত নাগরিক সমস্যার সমাধান এবং জরুরি নাগরিক সেবা বিষয়ে দলের অবস্থান উপস্থাপিত হয়েছে। একইসাথে ‘বিশেষ কর্মসূচি’ অংশে ১২ দফা ঘোষণা করা হয় এবং আলাদা অধ্যায়ে খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ২৮ দফা শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইশতেহারের ভূমিকায় বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচালক ও রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ হয়, আর নির্বাচনের আগে ইশতেহারের মাধ্যমে জাতির সামনে দলের নীতি-ভাবনা ও দেশ গঠনের রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই নীতি-ভাবনা, রূপরেখা ও কর্মসূচি সামনে রাখতেই এই ইশতেহার পেশ করেছে। দলটি জানায়, জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ইশতেহারের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
প্রেক্ষাপট বর্ণনায় দলটি উল্লেখ করে, ২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এক ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, হাজার হাজার নাগরিকের পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্বের বিনিময়ে “জুলুমশাহীর পতন” ঘটে বলে ইশতেহারে বলা হয়। দলটি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী, আহত ও আত্মউৎসর্গকারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।
ঘোষণাপত্রে ইশতেহারকে তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান অধ্যায়ে দলটি জানায়, রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালনকে তারা রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রে রাখবে এবং আদালত, ইনসাফ, নাগরিক স্বার্থে সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে। ক্ষমতার ধারণায় ‘ক্ষমতার চর্চা’ নয়, ‘দায়িত্ব পালন’কে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ভোটাধিকার চর্চা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়। ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা কমানো, নির্বাহী আধিপত্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমাতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, ক্ষমতা, জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য সাংবিধানিকভাবে স্পষ্ট করা এবং জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে দলটি জানায়, ধর্ম বা জাতি বিবেচনায় কাউকে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে দেখা হবে না; সকলের ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষা ও পালনের নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইশতেহারে রয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে বলা হয়, প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি-জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো দেশের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না। মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে শান্তিপূর্ণ, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংরক্ষণমুখী রাখার অঙ্গিকারও ঘোষণা করা হয়।
সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অংশে দলটি জানায়, দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে বাধ্য করা হবে। সংবিধানে নির্ধারিত ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে কার্যকর করে তাকে স্বাধীন ও ক্ষমতায়ন করা হবে। সরকারি ও উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি উন্মুক্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ, সরকারি দপ্তরের নথি ও ফাইল ব্যবস্থাপনা ধাপে ধাপে ডিজিটালাইজেশন, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ এবং ক্ষেত্রবিশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশনের যাচাইয়ের কথাও বলা হয়। জাতীয় বাজেটের সুষম বণ্টন, স্থানীয় সরকারের বাজেট ও ব্যয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপকারভোগী তালিকা প্রকাশ এবং নাগরিকদের অভিযোগ, মতামত ও সেবা-সংক্রান্ত সমস্যা জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় জবাবদিহিতা পোর্টাল চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। করপোরেট খাতে জবাবদিহিতা এবং বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকির কথাও উল্লেখ আছে, পাশাপাশি নাগরিক সংগঠনগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।
বৈষম্যবিরোধিতা ও ন্যায্যতার অংশে দলটি জানায়, পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন আইন ও নীতির প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত করা হবে; বৈষম্যকে কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে। একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন, সক্ষম ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ায় সম্মানজনক প্রতিনিধিত্ব, ভোটার নিবন্ধন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় বৈষম্যহীন অভিগম্যতা নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে আছে। নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার শরীয়াহ মোতাবেক বাস্তবায়ন জোরদার, পথশিশু ও বস্তিবাসীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নীতি এবং গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক ও অবৈতনিক পরিচর্যা কাজে নিয়োজিত নারীদের শ্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতি সম্পর্কে দলটি বলেছে, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি; নৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কৌশলে দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। দুর্নীতিবিরোধী আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, বাজার ও সেবাখাতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ঘুষ-স্বজনপ্রীতি-রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এবং প্রভাবশালীদের দুর্নীতিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথাও বলা হয়। নারীর মর্যাদা ও অধিকার বিষয়ে দলটি জানায়, নারীর বিদ্যমান পরিস্থিতি সমস্যাজনক স্বীকার করে হাজার বছরের ঐতিহ্য ও বোধ-বিশ্বাসের আলোকে করণীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং নারীর কর্মসংস্থান, অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য ইসলামী নীতিকেই কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্র সংস্কারে পরিকল্পনা অধ্যায়ে দলটি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের দায়বদ্ধতার কথা বলে এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনকে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূরের কার্যকর সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত, সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, উন্নয়ন ব্যয়ে স্বচ্ছতা, সরকারি ক্রয় ও প্রকল্প তথ্য উন্মুক্ত করা এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াতে ‘পাবলিক এক্সপেন্ডিচার রিভিউ কমিশন’ গঠনের কথাও এতে আছে। রাজস্ব স্পেস সম্প্রসারণ অংশে রাজস্ব আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত পাঁচ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার গড় পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য, রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভরতা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মূল্যায়নের কথা বলা হয়। প্রতিরক্ষা বিষয়ে স্বনির্ভর শক্তিশালী বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গিকার এবং স্থল, নৌ ও আকাশ সক্ষমতা বিশ্বমানের করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিশেষ কর্মসূচি অংশে দলটি জানিয়েছে, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মাসে পাঁচ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে; প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন একবেলা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা থাকবে; আঠারো থেকে চব্বিশ বছর বয়সী যুবদের জন্য সুদমুক্ত, জামানতবিহীন এককালীন ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা স্বাস্থ্যকার্ড, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ ও কৃষিকার্ড, দেশ-বিদেশে চাকরি খোঁজা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ জাতীয় চাকরি পোর্টাল, কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র, ঢাকাসহ সব নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্রাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা, সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা, নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা, নারী পোশাক কর্মীদের আবাসন, অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়নের কথাও বলা হয়।
খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, সুশাসিত আর্থিক খাত, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে টেকসই উত্তরণ, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন, নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন শহর-গ্রাম, নৈতিকতাসমৃদ্ধ কর্মমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, সার্বজনীন কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও শ্রমবাজারের সমন্বয়, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও উচ্চ-প্রযুক্তি খাত উন্নয়ন, উৎপাদন-সংরক্ষণ-বিপণনকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, প্রবাসী কল্যাণ, সার্বজনীন সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও মানসম্মত ওষুধ, সিনিয়র সিটিজেন ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক উন্নয়ন ভারসাম্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রংপুর, বরেন্দ্র, খুলনা-বরিশাল, নদীভাঙন ও হাওর অঞ্চলের আলাদা কৌশল, “বাংলাদেশ হবে বিশ্ব পর্যটনের রাজধানী” লক্ষ্য, নিরাপদ বহুমাত্রিক যোগাযোগ, সবার জন্য সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি, পরিবেশ-জলবায়ু-বন রক্ষা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সুরক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিস্তারিত অংশে অর্থনীতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভরতা, ব্যাংকিংসহ আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধ ও অর্থপাচার রোধ, বাজার তথ্যব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক ঋণে স্বচ্ছতা, ব্যাংক খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকা, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও মানবাধিকার সুরক্ষা, নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন ও সময়সীমা নির্ধারণ, শিক্ষায় নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তি-উদ্যোক্তা উদ্যোগ, কৃষক সহায়তা, প্রবাসী কর্মসংস্থানে দালাল প্রথা ভাঙা ও জি টু জি ব্যবস্থার কথা, টেলিমেডিসিন ও ভ্রাম্যমাণ সেবা, বয়স্কদের বিশেষ সুরক্ষা, পর্যটনে পরিবহন-আবাসন-খাবার-নিরাপত্তাকে সাশ্রয়ী করা, জলপথ উদ্ধার ও রেল সংযোগ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড ও মিটারিং, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধাপে ধাপে বন্ধের পরিকল্পনা, নদী উদ্ধার, সুপেয় পানি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং সবুজ নগরায়ণসহ নানা কর্মসূচির কথা বলা হয়।











