ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান যুদ্ধও আমেরিকার দীর্ঘদিনের ব্যর্থ সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক টম এঙ্গেলহার্ট।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা কোরিয়া, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন যুদ্ধে জড়ালেও উল্লেখযোগ্য কোনো যুদ্ধে জয় পায়নি। তার দাবি, ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমেরিকা সামরিক খাতে প্রায় ২১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই অর্থ পরবর্তী ১৮টি দেশের সম্মিলিত সামরিক ব্যয়ের সমান।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আমেরিকার সংবাদমাধ্যম অ্যান্টিওয়ার ডটকমে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে এঙ্গেলহার্ট এ মন্তব্য করেন।
এঙ্গেলহার্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের বর্তমান যুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়। তার দাবি, আমেরিকা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রিপার ড্রোনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলারের বেশি। এসব ড্রোনের অনেকগুলোই হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি ড্রোনের হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ চাইলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখন মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চাইছে। এঙ্গেলহার্টের মতে, এটি যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ারই চেষ্টা।
নিবন্ধে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদির বক্তব্যও তুলে ধরেন এঙ্গেলহার্ট। ঘারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা, বিমানবাহী রণতরী, সরকারি আদেশ কিংবা নির্বাচনি ভাষণের মাধ্যমে দখল করা সম্ভব নয়।
এঙ্গেলহার্ট আরও লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকার জন্য নতুন সংকট তৈরি করছে। তার দাবি, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য ভোটারদের মাত্র ২৯ শতাংশ ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
সূত্র: অ্যান্টিওয়ার ডটকম











