ছয় মাসের যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করার বদলে আমেরিকার চাপ মোকাবিলা করে দীর্ঘদিন সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক পর্যালোচনা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আমেরিকার সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে জুলিয়ান ই. বার্নস ও ডাস্টিন ভলজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও তার মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা নিয়ে তেহরান এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী। কয়েক মাস ধরে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে ইরানের।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থি সরকার সংঘাত আরও বড় আকারে বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
আমেরিকার কর্মকর্তাদের একটি অংশের ধারণা, ইরান আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চাইতে পারে। তেহরানের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলবে।
যুদ্ধে ইরান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের কৌশল তেহরানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
আমেরিকার গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান মনে করছে তাদের হাতে এখন যথেষ্ট চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনের বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে।
সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার ফ্রন্টও সক্রিয় হয়েছে। আমেরিকার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, জুলাইয়ে দেশটির ১০০টির বেশি পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থার ইন্টারনেট-সংযুক্ত ব্যবস্থায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আমেরিকার কর্মকর্তাদের সন্দেহ থাকলেও সরকারিভাবে এখনো হামলাগুলোর দায় ইরানের ওপর নিশ্চিতভাবে দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানি হ্যাকাররা আমেরিকার তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারণার মাধ্যমেও ইরান আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস











