শুক্রবার | ৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

গাজ্জায় নৌ ও স্থল বহর নিয়ে যাত্রার ঘোষণা সুমুদ মিশনের

গাজ্জার উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রার ঘোষণা দিয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা খ্যাত বৈশ্বিক মিশন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারিত) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজ্জা অভিমুখে পুনরায় সহায়তা নিয়ে নৌ-যাত্রার ঘোষণা দিয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা খ্যাত বৈশ্বিক মিশন।

পূর্বের তুলনায় আরো বড় পরিসরে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে আগামী ২৯ মার্চ এবারের যাত্রা শুরু হবে বলে জানায় বহর কর্তৃপক্ষ।

সুমাইরা আকদেনিজ ওর্দু নামে বহরটির একজন প্রথম সারির এক্টিভিস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,

আমরা আগামী ২৯ মার্চ বার্সেলোনা থেকে এবারের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করবো। তারপর তিউনিসিয়া, ইতালি এবং অন্যান্য ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলো থেকে আরো বহর আমাদের সাথে যুক্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এবার হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীদের সাথে নিয়ে যাত্রা করবো, যার মধ্যে ১ হাজারের অধিক পেশাদার ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী থাকবেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ বিশেষজ্ঞ ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তকারী থাকবেন। যা আমাদের এবারের বহরকে পূর্বের নৌ-মিশন থেকে আলাদা করে তুলবে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টাকে তিনি একটি বিকল্প উদ্যোগ আখ্যায়িত করে কারণ হিসেবে বলেন, এতে ফিলিস্তিনিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে নিজেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়েছে যে, তারা কীভাবে নিজস্ব মাতৃভূমি পুনর্নির্মাণ করতে চায়।

অপর এক সুমুদ এক্টিভিস্ট বলেন, এবার সমুদ্রপথে নৌ-মিশনের পাশাপাশি স্থলপথে সুমুদ ল্যান্ড কনভয় নামে একটি নতুন মিশন শুরু একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থলপথের বহরটিতে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য এবং গাজ্জাবাসীর প্রয়োজনীয় অন্যান্য সব সহায়তা সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। স্থল-বহরটি উত্তর আফ্রিকা থেকে যাত্রা শুরু করে মিশরের ভেতর দিয়ে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে গিয়ে পৌঁছাবে।

তিনি আরো বলেন,, দক্ষিণ এশিয়া থেকেও একটি স্থল-বহর যাত্রা করবে, যার বিস্তারিত শীগ্রই ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং নামমাত্র খোলা রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থানে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কারণ ইসরাইলের দখলদার কর্তৃপক্ষের নানান অপকৌশল ও বাধার কারণে মানুষের চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষ হিসেবে আমাদের এই করিডোরগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে সত্যিকার অর্থেই এর দায়িত্ব নিতে হবে।

অপর এক সুমুদ এক্টিভিস্ট তুরস্কের জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা জানি যে তুর্কি জনগণ ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিনি ও গাজ্জাকে ভালোবাসে। আমরা তুর্কি জনগণের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করি। তাই আমরা তুর্কি জনগণকে গাজ্জার জন্য একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানাই।

এর আগে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম বলেছিলেন, গাজ্জাগামী পরবর্তী সুমুদ মিশনে তার সরকার সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বা বৈশ্বিক সুমুদ নৌ-বহরের গাজ্জা অভিমুখে সমুদ্র যাত্রা সর্বপ্রথম ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়। অক্টোবরে গাজ্জা উপকূলের কাছাকাছি আসলে তা অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বর্বর নৌবাহিনী দ্বারা হামলার শিকার হয়। বহরের ৪০ এর অধিক নৌকায় আক্রমণ করে মানবিক সহায়তা জব্দ করে। পরিবেশবাদী কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ সহ এতে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৪৫০ এর অধিক এক্টিভিস্টকে আটক করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও তাদের বর্ণনায় আটক থাকাকালীন ভয়ংকর ও লোমহর্ষক নির্যাতনের বাস্তবতা উঠে আসে।

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল অক্টোবর ২০২৩ এর বহু আগ থেকে প্রায় ১৮ বছর যাবত গাজ্জা অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যেখানে প্রায় ২৪ লক্ষ ফিলিস্তিনির বসবাস।

সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তারা পূর্বের ন্যায় উপত্যকাটির একমাত্র সীমান্ত সংযোগ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে রাখে। বরং ২০২৫ এর মার্চ থেকে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহও বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ আরো জোরদার করে। যার ফলে সত্যি সত্যিই মারাত্মক দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে বিধ্বস্ত অঞ্চলটির অসহায় জনগণ।

কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ ও গণহত্যার মাধ্যমে অবৈধ রাষ্ট্রটি এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ